নিতাকাত জারি সৌদিদের চাকরি বাড়ছে সংকটে বাংলাদেশিরা

নিতাকাত জারি সৌদিদের চাকরি বাড়ছে সংকটে বাংলাদেশিরা

সৌদি আরব সরকার তাদের দেশে শ্রম শক্তি আমদানির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম জারি করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী সৌদি আরবের স্থানীয় কর্মসংস্থানকারী প্রতিষ্ঠান প্রতি দু’জন বিদেশি শ্রমিককে ফেরত পাঠানোর বিনিময়ে সরকার থেকে একটি ভিসা গ্রহণ করতে পারবে।

‘নিতাকাত’ নামের এ আইনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বাংলাদেশসহ বিদেশি অনেক শ্রমিক। যেমন, এ আইনের সূত্রে অনেক কোম্পানি আছে যেখানে বাংলাদেশিরা ভালো পজিশনে আছে সেখান থেকে তাদেরকে সরিয়ে সৌদি নাগরিকদের চাকরি দেয়া হচ্ছে এবং হবে। বিশেষ করে সেলসম্যান, অ্যাকাউন্টিং ও ম্যানেজার পোস্টে বিদেশিরা কাজ করতে পারবে না। যারা করছে তাদেরকে সরিয়ে সৌদি নাগরিকদের সেসব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

সম্প্রতি গৃহীত ‘পয়েন্ট পদ্ধতির’ আলোকে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে গত শুক্রবার সৌদি সংবাদ মাধ্যম জানায়।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকা জানিয়েছে, নিতাকাত পদ্ধতির আওতায় না পড়া ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের তাদের স্পন্সরশিপ পরিবর্তনে সংশ্লিষ্ট কর্মদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

প্রসঙ্গত নিতাকাত মানে সৌদিকরণ। এই সৌদিকরণের ফলে সব কোম্পানিতে কমপক্ষে ৩০% সৌদি নাগরিকদের কাজ দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় দৈনিক ওকাজ জানায়, সৌদি আরবের বেসরকারি খাতের নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে সরকারের হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের তত্ত্বাবধানে। এখন থেকে সৌদি আরবের কর্মভিসা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী তাদের ইচ্ছা মোতাবেক দেওয়া হবে না বলে মন্ত্রণালয়ের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে পত্রিকাটি।

পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন ‘দায়’ (সময় মত অবশ্য পরিশোধযোগ্য) হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয় মন্ত্রণালয়ের তরফে। এছাড়া শ্রমিকদের বেতন প্রদানে দেরি না করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ নির্দেশনা ভঙ্গকারীদের শাস্তির মুখোমুখি করা হবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয় মন্ত্রণালয় থেকে।

সৌদি প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৌদি নাগরিকদের বেতন বৃদ্ধি সরকার গৃহীত এ নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। এ ব্যাপারে সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানায়, বর্তমানে সৌদি আরবের শ্রম মন্ত্রণালয়, টেকনিক্যাল ভোকেশনাল ট্রেনিং করপোরেশন এবং হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফান্ড– এই তিনটি প্রতিষ্ঠান একটি অভিন্ন পক্ষ হিসেবে কাজ করছে। সৌদি নাগরিকদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।

নিতাকাত পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী এক বছরের মধ্যে সৌদি নাগরিকদের জন্য অতিরিক্তি আরও আড়াই থেকে ৩ লাখ চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়েছে। সৌদি নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এছাড়া, মন্ত্রণালয় নিতাকাত পদ্ধতির আওতার বাইরে থাকার কারণে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের করা নতুন কর্মীর জন্য ভিসার আবেদনও নাকচ করে দেয় বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের অবস্থান হলো, দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সব প্রতিষ্ঠানকেই নিতাকাত পদ্ধতির আওতায় আসতে হবে।

এদিকে, সৌদি কর্তৃপক্ষ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিতাকাত পদ্ধতির আরও একটি সংস্করণ বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। সৌদি ও বিদেশি শ্রমিকরা যেনো তাদের বেতন বিলম্ব ছাড়াই পেতে সক্ষম হয় তা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়ার উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে সূত্র।

অভিজ্ঞ মহলের মতে, সৌদি কর্তৃপক্ষ নিতাকাত পদ্ধতির প্রবর্তন করছে তাদের নিজেদের স্বার্থেই। এই সৌদি করণের ফলে অনেক বেকার সৌদির সরকারি চাকরি হচ্ছে যাদের অধীনে অনেক ‘আজনবি আমেল’ বা বিদেশি শ্রমিক ছিলো। এখন সরকারি চাকরি পাওয়ার ফলে ওইসব সৌদি নাগিরিক আর কোনো শ্রমিক আনতে পারবে না। অর্থা‍ৎ শ্রমিক আনা বাবদে তারা যে ব্যবসা করতো বা অর্থ আয় করতো তা এখন বন্ধ হয়ে গেল। একই সঙ্গে সরকারি চাকরি পাওয়া সৌদি নাগরিকদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও থাকতে পারবে না। তবে সবকিছু মিলিয়ে নিতাকাতের ফলে সৌদি আরবে বাংলাদেশি তথা বিদেশি শ্রমবাজার সঙ্কুচিত হওয়ার প্রক্রিয়া বেগবান হলো। এ ঘটনায় বাংলাদেশিসহ বিদেশি শ্রমিক-কর্মী বিশেষ করে যারা একটু ভালো অবস্থানে আছেন, তারা নিশ্চিত সমস্যার মুখে পড়তে যাচ্ছেন।

এছাড়া অনেক বিদেশি যারা মাসিক ‘কফালত’ বা মাসোহারার বিনিময়ে সৌদি নাগরিকদের নামে ব্যবসা করতো নিতাকাতের ফলে এখন সেটাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেক বিদেশি এই সমঝোতার মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে মোটামুটি ভালো একটা অবস্থানে ছিলেন- তারা তাদের সেই অবস্থান তথা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও এখন হারাচ্ছে।

অর্থ বাণিজ্য