ব্রোকারেজ হাউজে ছাঁটাই আতঙ্ক

ব্রোকারেজ হাউজে ছাঁটাই আতঙ্ক

পুঁজিবাজারে মন্দা ও লেনদেন কমে যাওয়ায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তালিকাভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজগুলোর শাখা অফিস।

এদিকে, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর শাখা অফিস বন্ধের উপক্রম হওয়ায় চাকরি হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন কয়েকশ কর্মী। কারণ ইতিমধ্যে ব্রোকারেজ হাউজগুলো তাদের শাখা অফিস থেকে শতাধিক অনুমোদিত প্রতিনিধিকে (অথোরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভ) চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। বাজার পরিস্থিতি ভালো না হলে এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানায় ওই সূত্র।

জানা গেছে, ২০১০ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে যেখানে দৈনিক লেনদেনের গড় দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকার ওপরে ছিল, সেখানে বর্তমানে লেনদেনের গড় ২৫০ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ব্রোকারেজ হাউজগুলোর লেনদেন ১০ ভাগের এক ভাগে নেমে যাওয়া হাউজ মালিকরা এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

ডিএসই থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ২০০৯ ও ২০১০ সালে দেশের ২৮টি জেলায় শেয়ারবাজারের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়। ২০০৮ সালে ১০টি জেলায় এ কার্যক্রম সীমিত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়া শুরু করলে দৈনিক লেনেদেনে পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই হাউজগুলোর প্রধান শাখাগুলো তাদের ব্যবসা সম্প্রসারিত করতে বিভিন্ন জেলা এমনকি উপজেলাতে শাখা অফিস বা তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়।

২০১০ সালে ব্রোকারেজ হাউজগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, নোয়াখালী, নরসিংদী, পাবনা, রংপুর, রাজশাহী, কক্সবাজার, ফেনী, গাজীপুর, হবিগঞ্জ, জামালপুর, যশোর, কিশোরগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, নওগাঁ, বরিশাল বগুড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে শাখা বিস্তার করে।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে সারা দেশে ডিএসইর আওতাধীন ব্রোকারেজ হাউজগুলোর শাখার সংখ্যা ছিল মাত্র ২৭২টি। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে হাউজের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৮টিতে এবং ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৪১টিতে গিয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) আওতায় মোট ১৩৭টি ব্রোকারেজ হাউজের ১৬০টির শাখা রয়েছে।

এবিষয়ে ডিএসইর প্রেসিডেন্ট ও মিডওয়ে সিকিউরিটি হাউজের এমডি মো. রকিবুর রহমান বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশের শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন আছে। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বর্তমান সময় খারাপ যাচ্ছে। এতে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আয় কমে যাওয়ায় কয়েকটি হাউজ মালিকরা তাদের শাখা অফিস বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তা করছে বলে শুনেছি। তবে এখনও অফিসিয়ালি কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বেশি হলে হাউজগুলোর আয় বাড়ে। কিন্তু এখন আয় অনেক কমে যাওয়ায় তারা খরচ সামলে উঠতে পারছে না। তবে আমি আশা করি বাংলাদেশের পুঁজিবাজার শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াবে। তখন হাউজগুলো তাদের কার্যক্রম আবার বিস্তার করতে পারবে।’

এদিকে, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) হিসাব মতে, ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে বিও অ্যাকাউন্টধারী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল ৩৩ লাখ। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ২৬ হাজারে। অর্থাৎ দেড় বছরে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্ট কমে গেছে পৌনে ৯ লাখ। পাশাপাশি কমে গেছে লেনদেনের পরিমাণ।

জানা যায়, ২০০৮ সালে শাকিল রিজভী স্টক লিমিটেডের হাউজের কর্মচারী ছিল ৪০ জন। ২০১০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৪ জনে। কিন্তু বর্তমান বাজারের ধারাবাহিক দরপতনের কারণে গত এক বছরে লোকবল কমিয়ে ৬৭ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের(ডিএসই) সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী স্টক লিমিটেডের মালিক শাকিল রিজভী বলেন, ‘যখন বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল তখন বিনিয়োগকারীদের সংখ্যাধিক্যের কারণে লোকবল বাড়াতে হয়েছিল। এখন বিনিয়োগকারী কমে গেছে। কমিশন আয়ও অনেক কম। তাই লোকবল কমাতে হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, ‘২০১০ সালে তার হাউজের দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা। যা এখন কমে দুই থেকে তিন কোটিতে নেমে গেছে। এ পরিস্থিতিতে হাউজ চালানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই এ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।’

অর্থ বাণিজ্য