অতিরিক্ত প্রিমিয়ামে অটবির আইপিও!

অতিরিক্ত প্রিমিয়ামে অটবির আইপিও!

অতিরিক্ত প্রিমিয়াম ধরে পুঁজিবাজার থেকে টাকা সংগ্রহ করতে অটবি কোম্পানি শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) বরাবর  আইপিও আবেদন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ফার্নিচার কোম্পানিটির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টরা। অটবির আইপিও আবেদনটি এখন এসইসির বিবেচনাধীন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল অটবি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসইতে) জমা দেয়। ডিএসই অটবির দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই না করেই এসইসির কাছে পাঠায়। এখন এসইসি বিষয়টি বিবেচনা করবে।

জানা যায়, কোম্পানিটি বাজারে মোট ৪ কোটি শেয়ার ছাড়বে। কোম্পানির শেয়ার প্রতি প্রস্তাবিত মূল্য ধরা হয়েছে ৪৫ টাকা। এর মধ্যে প্রতিটি শেয়ারের ফেস ভ্যালু ধরা হয়েছে ১০ টাকা। আর শেয়ার প্রতি প্রিমিয়াম ধরা হয়েছে ৩৫ টাকা।

বাজার থেকে অটবি কোম্পানি মোট ১৮০ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার জন্য এই আবেদন করেছে।

ডিএসইতে জমা দেওয়া কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে শেয়ার প্রতি আয় দেখানো হয়েছে ২ দশমিক ৯৩ টাকা।

এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান বলেন, “একটি কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রিমিয়াম নিতেই পারে। তবে দেখতে হবে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা কেমন। এছাড়া অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে এবং কম প্রিমিয়াম নিলে আগ্রহ বাড়ে।“

তিনি আরও বলেন, “কোনো কোম্পানি প্রিমিয়াম নিয়ে বাজারে আসতে চাইলে তাদের সেফটি নেটের আওতায় আসা উচিত। এতে বিনিয়োগকারীরা রক্ষা পায়। অর্থাৎ অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিয়ে বাজারে এলে এক বছরের মধ্যে যদি শেয়ারের মূল্য অফার মূল্যের চেয়ে কমে যায় তবে তা বাইব্যাক করে নিতে হবে।“

ডিএসইর প্রেসিডেন্ট বলেন, “অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিলে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ শেয়ার এবং কম প্রিমিয়াম নিলে ৫০ শতাংশ শেয়ার রাখা উচিত।“

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আ ন ম আতাউল্লাহ নাইম বলেন, “আমরা সব সময় অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নেওয়ার বিরুদ্ধে। আমরা জেনেছি ফার্নিচার কোম্পানি অটবি ৩৫ টাকা প্রিমিয়াম নিয়ে বাজার থেকে টাকা তোলার প্রস্তাব করেছে। যা এখন এসইসির বিবেচনাধীন রয়েছে। আমরা এর আগেও এসইসির কাছে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিয়ে আইপিও অনুমোদন না দেওয়ার প্রস্তাব করেছি। বর্তমান বাজারে এই অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিয়ে আইপিও অনুমোদন করলে বিনিয়োগকারীরা তাতে সাড়া দেবে না।“

তিনি আরও বলেন, “মন্দা বাজারে এর আগেও অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিয়ে কয়েকটি কোম্পানি আইপিও ছেড়েছে। কিন্তু তাদের আইপিওতে বিনিয়োগকারীরা সাড়া দেয়নি। ফলে তাদের আইপিও আন্ডার সাবসক্রাইব হয়েছে।“

এ বিষয়ে বিনিয়োগকারী শফিউল্লাহ বলেন, “এই মন্দা বাজারে যেসব কোম্পানি অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিয়ে বাজার থেকে টাকা সংগ্রহ করতে চায় তাদের অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়।“

তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি এসইসি কয়েকটি কোম্পানিকে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিয়ে বাজার থেকে অনুমোদন দিয়েছে। এসব কোম্পানিগুলোর শেয়ার বর্তমানে প্রস্তাবিত মূল্যের কম দামে বিক্রি হচ্ছে। যার ফলে আইপিওর প্রতি বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাচ্ছে।“

তিনি আরও বলেন, “বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাবে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নেওয়া কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তাদের টার্গেটের তুলানায় কম সাড়া পাচ্ছে। ডিএসইতে সদ্য তালিকাভুক্ত হওয়া কয়েকটি কোম্পানির আইপিও আবেদনে শেয়ারের সংখ্যার তুলনায় কম আবেদন জমা পড়েছে।“

সুতরাং ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে অটবির অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিয়ে বাজার থেকে টাকা তোলার প্রস্তাবে বিনিয়োগকারীদের তেমন সাড়া পাওয়া যাবে না।

 

অর্থ বাণিজ্য