স্থাপিত হতে যাচ্ছে আরো ৬ স্থলবন্দর

স্থাপিত হতে যাচ্ছে আরো ৬ স্থলবন্দর

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে দর্শনা স্থলবন্দর কার্যকর করাসহ আরো ৫টি স্থলবন্দর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আমদানি-রফতানি ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শুরু করতে ৫টি স্থানে স্থলবন্দর করার সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম জেলার সোনাহাট, নীলফামারী জেলার চিলাহাটি, কুষ্টিয়া জেলার প্রাগপুর, চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর ও দর্শনা এবং মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কয়েক মাস আগেই নৌ-পরিহন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার দৌলতগঞ্জকে স্থলবন্দর ঘোষণার লক্ষ্যে দৌলতগঞ্জ-মাঝদিয়া শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম চালু করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে গত ৭ মার্চ। দর্শনা স্থলবন্দরকে কার্যকর করার লক্ষ্যে চিঠি দেওয়া হয় গত ৯ এপ্রিল।

মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর-বুড়িপোতা ও কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর স্থলবন্দর করার লক্ষ্যে চিঠি দেওয়া হয় গত ৭ মার্চ। মেহেরপুরের মুজিবনগর বা বুড়িপোতা যেখানেই স্থলবন্দর ঘোষণা করা হোক না কেন, তার নাম রাখা হবে মুজিবনগর। ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা এবং পর্যটকদের আগমনের কথা বিবেচনায় রেখে এটি করার অনুরোধ জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য। এ ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এছাড়া নীলফামারীর চিলাহাটি শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর ঘোষণার লক্ষ্যে ওই স্টেশনটি কার্যকর করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে গত ৮ মার্চ।

দেশে বর্তমানে ১৭টি স্থলবন্দর রয়েছে। আর শুল্ক স্টেশন রয়েছে ১৭৯টি। ১৭টি স্থলবন্দরের মধ্যে মূলত সাতটি স্থলবন্দর সচল। বাকি স্থলবন্দরগুলোতে আমদানি-রফতানি কম। দর্শনা স্থলবন্দর বন্ধ হয়ে চালু রয়েছে শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম।

জীবননগর
জীবননগরকে স্থলবন্দর করার বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলাইমান হক জোয়ারদার বন্দর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

তিনি এ সংক্রান্ত এক সভায় জানান, জীবননগর উপজেলা সদর থেকে দৌলতগঞ্জ সীমান্ত চ্যাংখালীর দূরত্ব ৭ কিলোমিটার। সীমান্তের কাছে ২০০ গজ বাদে বাকি রাস্তা পাকা। রাস্তাটিও প্রশস্ত। দৌলতগঞ্জের বিপরীতে ভারতীয় সীমান্ত ধরমপুর। ধরমপুরের সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরে সড়ক যোগাযোগ ভালো। ধরমপুর থেকে ভারতের মাঝদিয়া শুল্ক স্টেশনের দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার।

এসব বিবেচনায় ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে জীবননগরে স্থলবন্দর চালু করা যায় বলেই মনে করেন এই সংসদ সদস্য।

মুজিবনগর
ইতিহাসে মুজিবনগর একটি অবিস্মরণীয় নাম। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে। এ স্থানে একটি স্থলবন্দর স্থাপনে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে।

সূত্র জানায়, মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর অথবা বুড়িপোতার মধ্যে যে কোনো সুবিধাজন স্থানে স্থল বন্দর হতে পারে। তবে নামকরণ করতে হবে মুজিবনগর। স্থানীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন এলাকাবাসীর পক্ষে এ দাবি করেন সরকারের কাছে। তিনি সরকারের কাছে জানান, প্রতিবছর দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ১০ লাখের বেশি পর্যটক যান মুজিবনগরে।

সরকার পক্ষে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশ অংশে মুজিবনগর এবং ভারতীয় অংশে নবীনগর কোথাও শুল্ক স্টেশন ঘোষণা করা হয়নি। স্থলবন্দর স্থাপনের আগে এলসি স্টেশন স্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল মান্নান হাওলাদার মুজিবনগরে স্থলবন্দর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মতামত দেন।

মুজিবনগর স্থলবন্দর স্থাপনে ভারতীয় অংশে শুল্ক স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে প্রস্তাবনা বিনিময় করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গত ৭ মার্চ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রাগপুর
কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলা সদর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে প্রাগপুর সীমান্ত এলাকা। প্রাগপুর থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। প্রাগপুরের ভারতীয় সীমান্ত অংশের নাম শিকারপুর, যা পশ্চিবঙ্গের কাসিমপুর থানার অন্তর্ভুক্ত।

প্রাগপুর পয়েন্ট দিয়ে ঢাকা থেকে সড়কপথে কোলকাতার দূরত্ব ২৫০ কিলোমিটার। প্রাগপুর সীমান্তে মাথাভাঙ্গা নামে একটি নদী রয়েছে। এর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলে ভারতের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। তবে এখানে স্থলবন্দর করতে আগে শুল্ক স্টেশন ঘোষণা করতে হবে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিলাহাটি
নীলফামারী জেলার চিলাহাটিতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই একটি চেকপোস্ট চালু ছিলো। ২০০২ সালে চেকপোস্টটি বন্ধ হয়ে যায়। ভারতীয় অংশে এলসি স্টেশন বা চিলাহাটি শুল্ক স্টেশনটি অকার্যকর রয়েছে। ভারতীয় অংশে ইমিগ্রেশন ও এলসি স্টেশন না থাকলেও তাদের আগ্রহ রয়েছে। চিলাহাটির যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো।

সোনাহাট
কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট শুল্ক স্টেশনটির ১৯৯৬ সালে প্রজ্ঞাপন জারি করা থাকলেও এ যাবত কার্যক্রম চালু করা হয়নি। এ শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে পাথর, কয়লা, ফল, চাল ও পেয়াজ আমদানি-রফতানি হতে পারে।

দর্শনা স্থলবন্দর
সংযোগ সড়ক না থাকায় দর্শনা স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম চালু রয়েছে। রেল রুটে আমদানি-রফতানি হচ্ছে। ভারতীয় অংশে সড়ক পাকা করা রয়েছে। তাই বাংলাদেশ অংশে রাস্তা নির্মাণ করা প্রয়োজন। অবকাঠামো নির্মাণ করে স্থলবন্দর হিসেবে কার্যকর করা যায়।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর টগর স্থলবন্দরের সম্ভাব্যতা নিয়ে এক সভায় দর্শনার অবস্থা তুলে ধরে দ্রুত রাস্তা নির্মাণের জন্য অনুরোধ জানান।

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা ও পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর সীমান্তে এ বন্দরের অবস্থান।

অর্থ বাণিজ্য