আলেপ্পোতে জাপানি নারী সাংবাদিক নিহত

আলেপ্পোতে জাপানি নারী সাংবাদিক নিহত

সিরিয়ার আলেপ্পো নগরীতে পেশাগত কর্তব্য পালনরত অবস্থায় এক জাপানি সাংবাদিকের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী জাপানি নারী সাংবাদিক মিকা ইয়ামামোতো সোমবার আলেপ্পোতে সংঘর্ষ কাভার করতে গিয়ে নিহত হন। তার সঙ্গে থাকা অপর দুই বিদেশী সাংবাদিক এখনও নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

মার্চ ২০১১তে শুরু হয়ে এখনও চলতে থাকা সিরিয়ার গণ আন্দোলন ও সহিংসতায় এ পর্যন্ত চারজন বিদেশী সাংবাদিকের প্রাণহানি ঘটলো।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয় ইয়ামামাতো জাপানের একটি নিউজ এজেন্সির পক্ষে সিরিয়ার সহিংসতা কাভার করতে আলেপ্পোয় প্রবেশ করেছিলেন। ইয়ামামাতোর সঙ্গীরা তার মৃতদেহ সনাক্ত করে বলে বিবৃতিতে বলা হয়। আলেপ্পোতে উভয় পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে তিনি আটকা পড়েন বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

এদিকে যুক্তরাস্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত টেলিভিশন চ্যানেল আল হুরা জানায় সোমবার তাদের দুই কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে তারা। এই দুই সাংবাদিকও ইয়ামামাতোর সঙ্গে আলেপ্পোতে ছিলেন বলে জানায় তারা।

ইয়ামামাতোর মৃত্যু প্রসঙ্গে ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবসার্ভেটরি ফর হিউমান রাইটস জানায় আলেপ্পোর সুলাইমানিয়া জেলায় সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের লড়াইয়ের মাঝে পড়ে নিহত হন তিনি।

সংগঠনের প্রধান রামি আবদেল রাহমান জানান সুলাইমানিয়ার লড়াই কাভার করতে গিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি।  সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাকে প্রাণে বাচাঁনো সম্ভব হয়নি।

ইয়ামামাতো জাপানের টেলিভিশনে একটি পরিচিত মুখ ছিলেন। এর আগেও তিনি একবার অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক দখলের সময় বাগদাদের প্যালেস্টাইন হোটেলে মার্কিন বিমান হামলার সময় ওই হোটেলেই ছিলেন তিনি।। ওই ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা তিন বিদেশী সাংবাদিক নিহত হলেও রক্ষা পান তিনি। এরপর থেকেই মূলত জাপানসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত হয়ে ওঠেন ইয়ামামাতো।

১৯৯৫ সালে জাপান প্রেসে যোগ দেওয়া এ সাহসী নারী সাংবাদিক আফগানিস্তানের লড়াইও কাভার করেন।

আন্তর্জাতিক