পদ্মাসেতু সঙ্কট: ড. ইউনূসের দিকে ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর

পদ্মাসেতু সঙ্কট: ড. ইউনূসের দিকে ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর

পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিলের জন্য বিশেষ কারো হাত রয়েছে এমন কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ কথা বলে তিনি নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ, গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।

“কোনো ব্যক্তি বিশেষের জন্য, কোনো এক ব্যাংকের এমডি পদের জন্য বিশ্ব ব্যাংক টাকা বন্ধ করে দেবে- একথা আমার কানে এসেছিলো। অনেকেই আমাকে এ কথা বলেছিলো,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

পদ্মা সেতুর জন্য ভূমি অধিগ্রহণের জন্য এরই মধ্যে সরকার দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ অর্থ খরচ করা হলো কোনো দুর্নীতি ছাড়াই অথচ যে খাতে এখনো অর্থ ছাড়ই দেওয়া হলো না- সেখানে দুর্নীতি হলো। বিশ্বব্যাংকের এমন দাবি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ”

দুর্নীতি বরং বিশ্বব্যাংকের তরফ থেকে করা হয়েছে, আবারও জোর দিয়ে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

কানাডিয়ান কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনের গ্রেপ্তারকৃত কর্মকর্তাদের ডায়রিতে কয়েকজনের নাম পাওয়ার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এর বিশ্বাসযোগ্যতা কতটুকু তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমার আত্মবিশ্বাস আছে-অন্যায় করিনি। কেনো মাথা নিচু করে থাকবো?”

পদ্মাসেতুর কাজ এবছরের মধ্যেই শুরু করার প্রত্যয় পুনর্ব্যাক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টাকা যা লাগবে তা ইতোমধ্যে ঠিক করে ফেলেছি।

যে কোম্পানি কনসালটেন্সি পেতে দুর্নীতি করেছে তাদের বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “দরকার হলে নতুন করে টেন্ডার হবে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, “কোনো এক ব্যক্তি বিশেষের কোন এক ব্যাংকের এমডি পদের জন্য বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করবে বলে আমরা আগে থেকেই শুনে আসছিলাম। অনেকেই আমাকে এসব কথা বলেছিলো।

এরপর দুর্নীতির গন্ধ পেয়ে তারা ঋণচুক্তি বাতিল করে দেয়। তারা একটা টাকাও ছাড় না দিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের জনগণের ক্ষতি করেছে।”

আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক এমডি নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নাম উল্লেখ না এ অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পদ্মা সেতু নির্মাণের এ বছরের টাকা আমরা জোগাড় করে ফেলেছি। আমাদের রিজার্ভ রয়েছে। সেখান থেকে এক বিলিয়ন ডলার খরচ করা কোন কঠিন ব্যাপার নয়। আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, একটা ব্রিজ বানাতে পারব না কেন? আমরা কারো কাছে মাথানত করবো না।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা ক্ষমতায় এসে পদ্মা সেতু নির্মাণে সার্বিক উদ্যোগ নিই। বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করি। এ সময়ে বিশ্বব্যাংক নিজেই সহায়তা দিতে এগিয়ে আসে।”

তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বব্যাংকের কাছে চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে কোন আবেদন করিনি। তারা নিজেরাই চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছে। আবার নিজরাই হঠাৎ করে তা বাতিল করে দিল।”

প্রধানমন্ত্রী জানান, পদ্মাসেতুর জন্য জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপুরণে দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক সেখানে তদন্ত করে কোন দুর্নীতি পায়নি। অথচ যেখানে কোন টাকাই ছাড় দেইনি সেখানে দুর্নীতির অভিযোগ তুললো বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “একটি কোম্পানিকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাংক বারবার চিঠি দিয়েছিলো। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল সেটা একটা ভুয়া কোম্পানি। একটা ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক নিয়োগ দিতে বারবার চিঠি দেওয়া- এটা কি দুর্নীতি নয়? কী সম্পর্ক ছিলো ওই কোম্পানির সঙ্গে? কোনো লেনদেন ছিলো কি না, সেখানে দুর্নীতি হয়েছে কি না সেটাই বড় প্রশ্ন।”

তিনি আরো বলেন, “বিশ্বব্যাংক একটি বড় শক্তি। এটার মধ্যে অনেকে নয়-ছয় করতে পারে। আমার বিশ্বাস আমি কোনো অন্যায় করিনি। তবে আমার নাম ভাঙিয়ে কিছু করতে চাইলে তাকে ছাড়ব না।

আমার পরিবারের সদস্যদের কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে, আমাদের নাম ভাঙিয়ে কেউ সুবিধা নিতে চাইলে আমি ই-মেইল ও টেলিফোন করে জানাতে বলেছি।”
বিরোধী দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “যারা আজ দুর্নীতির কথা বলছে তাদের দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক সব সহায়তা বাতিল করেছিলো। যাদের মুখে আজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা শুনছি তাদের কেউ কেউ দুর্নীতি করে বঙ্গবন্ধু ও জেনারেল এরশাদের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে রাজনীতি করছে। চোরের মার বড় গলা। আমার কাছে অনেক তথ্য আছে আস্তে আস্তে সব বের করবো।”

 

বাংলাদেশ