ফখরুলদের ছাড়াই চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা শুনানি সোমবার

ফখরুলদের ছাড়াই চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা শুনানি সোমবার

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় চার্জশিটের গ্রহনযোগ্যতা শুনানিতে  বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জোটের কোন নেতাকেই কারাগার থেকে আদালতে আনা হচ্ছে না।

আদালতের একটি সূত্র বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছে। মির্জা ফখরুলসহ এ মামলায় ৪১ জন নেতাকর্মী কারাগারে আটক আছেন।

সোমবার সকালে মহানগর হাকিম মো. এরফান উল্লাহ’র আদালতে চার্জশিটের গ্রহনযোগ্যতা শুনানির জন্য দিন ধার্য আছে।

রোববার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৫ জনকে কারাগার থেকে মাইক্রোবাসে করে আদালতে আনা নেওয়ার জন্য আবেদন করা হলে শুনানি শেষে বিচারক না নাকচ করে দেন।

অপর ৪ জন হলেন- ব্রিগেডিয়ার জে. (অব.) হান্নান শাহ, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহম্মেদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু।

আবেদনে বলা হয়েছিল, তাদের প্রত্যেকের বয়স ৬৫ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে। গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে ঢাকার নিম্ন আদালত পর্যন্ত তাদের আনতে কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা সময় লাগবে। প্রিজনভ্যানে বসার সু-ব্যবস্থা নেই। তাই এ বয়সে তাদের পক্ষে ৩ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আসা সম্ভব নয়। এভাবে আদালতে আনা নেওয়া করা হলে তাদের জীবন হুমকির মধ্যে পড়তে পারে। তাই মাইক্রোবাসে করে তাদের আদালতে হাজির করতে কারাকর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া প্রয়োজন।

মির্জা ফখরুল ছাড়া কারাগারে আটক অপর আসামিরা হচ্ছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার,  স্থায়ী কমিটির সদস্য বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব) আ স ম হান্নান শাহ, সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খোন্দকার মোশারফ হোসেন, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ছাত্রদলের সাবেক নেতা কামরুজ্জামান রতন, বিএনপি’র যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, স্বণির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংসদ সদস্য ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিবুন্নবী খান  সোহেল,  সাধারণ সম্পাদক  মীর সরাফত আলী সফু,  ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমীরুল ইসলাম খান আলীম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান খোকন, ছাত্রদল সভাপতি সুলতান ছালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, ঢাকা মহানগর যুবদলের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম মজনু, বিজেপি’র চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, ঢাকা মহানগর উত্তর এর স্বেচ্ছাসেবক দল আহবায়ক ইয়াছিন আলী,  যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব,  জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তি’র চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আ. মতিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক কামাল আনোয়ার আহমেদ লিটু, বিএনপি নেতা ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার আবুল বাসার, বিএনপি নেতা ও ৪০ নং ওয়ার্ড কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার , লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানা বিএনপি নেতা লুৎফর রহমান ওরফে এল রহমান, বিএনপি’র সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নবী সোলায়মান, খিলগাঁও থানা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক কমিশনার ইউনুছ মৃধা, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ইসমাইল খান শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দল মোহাম্মাদপুর থানা শাখার সভাপতি মান্নান হোসেন শাহীন, ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম-সম্পাদক ওবায়দুল হক নাসির, বাসের কন্ডাক্টর সোহেল মিয়া, হেলপার জসিম ও মানিক রতন।

সোমবার মামলার জামিনে থাকা একমাত্র আসামি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে হাজির থাকবেন বলে তার আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ জানিয়েছেন।

মামলার অপর তিন আসামি জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত নায়েবে আমীর মো. মকবুল আহমদ, ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম বুলবুল ও ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন সাইদী মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের পর রাত ৯টা ৫ মিনিটে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে একটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে হরতালকারীরা।

এ ঘটনায় তেজগাঁও থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক ইসমাইল মজুমদার বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনের ৪ ও ৫ ধারায় এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোটের ৪৪ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ৬/৭টি মাইক্রোবাসে করে আসামিরা এসে ঢাকা মেট্রো জ- ১১- ২১০৯ বাসটিতে ভাঙচুর করে ও আগুন ধরিয়ে দেয়।

বাংলাদেশ