বঙ্গবন্ধু সেতুতে ট্রেনের ওজন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ যন্ত্র

বঙ্গবন্ধু সেতুতে ট্রেনের ওজন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ যন্ত্র

বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে যাতায়াতকারী মালবাহী ট্রেনের ওজন নিয়ন্ত্রণে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র বসানো হয়েছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে এ তথ্য জানান।

বিশেষ এ যন্ত্র দিয়ে কম্পিউটারাইজড সিস্টেমে ট্রেনের ওজন মাপা হবে। নির্ধারিত ওজনসীমা অতিক্রম করলে ট্রেন সেতুতে ওঠার ‘সিগন্যাল’ যন্ত্র থেকে পাওয়া যাবে না।

ব্রিটেনের প্রতিষ্ঠান ‘রেলওয়েট’ সেতুর উভয়প্রান্তে ‘ওয়েলাইন সিস্টেম’ যন্ত্র স্থাপন করেছে। সেতুর আগের স্টেশনের পাশের ট্রেনলাইনে চার জোড়া ‘ট্রান্সডিউসার’ বসানো হয়েছে। আই-লাইন সফটওয়্যার প্রযুক্তি দিয়ে একটি মাত্র কম্পিউটার থেকেই পুরো প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ যন্ত্র দিয়ে পাওয়া পরিমাপে ভুলের হার শতকরা দশমিক পাঁচ শতাংশের বেশি হবে না।

নতুন বসানো যন্ত্র ট্রেনের প্রতিটি বগির ওজন মাপবে এবং পুরো ট্রেনের নির্ধারিত ওজনের বেশি মাল থাকলে যন্ত্র থেকে ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়া যাবে না।

নির্ধারিত ওজনের মধ্যে থাকা ট্রেন এখন থেকে ৮০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে বলেও ওই কর্মকর্তা জানান।

বঙ্গবন্ধু সেতু ১৯৯৮ সালে উদ্বোধনের পরপরই এতে ফাটল দেখা দেয়। পর্যায়ক্রমে ২০০৬ সালে এ সেতুর ফাটল বেশি হয়ে দেখা দেয়। এক পর্যায়ে এতে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে এখন দিনরাত মিলিয়ে ১৫ থেকে ১৭টি মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। ট্রেনের ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো ব্যবস্থা এতোদিন ছিল না।

যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫০ টন ওজনের মাল নিয়ে ট্রেন চলার নির্দেশনা রয়েছে। যদিও এ সেতু সর্বোচ্চ ২০০ টন পর্যন্ত স্বাভাবিক ওজন বহন করতে সক্ষম।

বঙ্গবন্ধু সেতুর ফাটল মেরামতে কাজ করছে চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন  কোম্পানি (সিসিসিসি)। সেতুটির সংস্কারে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৩৫০ কোটি টাকা।

এদিকে ২০০৮ সালের ৫ মার্চ এ সেতুর ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ১৬ টন ওজনের ট্রাক চলাচলের নির্দেশ দেয় সেতু বিভাগ। যদিও ওজন স্টেশন ঠিকমতো চালু না থাকায় বেশি ওজনের ট্রাক অহরহই পারাপার হচ্ছে।

অর্থ বাণিজ্য