ঢাবি প্রশাসনকেই ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে হবে : মেনন

ঢাবি প্রশাসনকেই ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে হবে : মেনন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ডাকসুর সাবেক ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সভাকক্ষে ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে ‘অচল ডাকসু সচল করো’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তারা এ দাবি উত্থাপন করেন।

সবার দাবি, দেশগঠনে সুশিক্ষিত, দেশপ্রেমিক ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য ডাকসু নির্বাচনের বিকল্প নেই। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ডাকসু নির্বাচন না থাকায় দেশে যোগ্য রাজনীতিবিদের অভাব অনুভূত হচ্ছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের অনেক ন্যায্য অধিকার থেকে।

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বৈঠকে বলেন, এসব গোলটেবিল বা আদালতের দ্বারস্ত হলেই ডাকসু নির্বাচন হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নিলে শর্তের বেড়াজালেই আটকে থাকবে ডাকসু নির্বাচন।
মেনন বলেন, ডাকসু একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের আন্দোলনের ফলে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভায় এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ কে নেবে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকেই পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কাজ করতে হবে। পরিবেশ নেই এটা খুবই দু:খজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক।

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ডাকসু নির্বাচন ছাত্র সমাজের প্রয়োজনে একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব সৃষ্টি করার জন্যই এই নির্বাচন। সত্যিকারভাবে একটি জাতিকে গণতান্ত্রিকভাবে গড়ে তোলার জন্য এ নির্বাচন দরকার।

তাই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন না করে, তাদের মঞ্জুরি বাতিল করার দাবি জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ডাকসুকে কেন্দ্র করে বড় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের জন্যই এ নির্বাচনের মৌলিক দাবিকে মেনে নিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন সর্ম্পকে শিক্ষক সমিতির মতামত স্পষ্ট। গণতন্ত্রের স্বার্থেই আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন শুরু করেন, তাতে দেশের সব ছাত্ররা অংশগ্রহণ করছেন। সরকার বা ছাত্র সংগঠনের জন্য নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্যই ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে না। ১৯৭৩ সালের আধ্যাদেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। এই বিধিমালায় সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি থাকার কথা। এই সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি না থাকায় ’৭৩ সালের আধ্যাদেশ লঙ্ঘিত হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিও নির্বাচিত নয়।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন না হওয়ার ফলে দেশে যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতেকে সংকূচিত করে হলেও ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচিত হচ্ছে। তাই বাংলাদেশেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চায়। ডাকসু নির্বাচনের জন্য যে কোনো ব্যবস্থা নিলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তাতে সম্মত আছে।

এই নির্বাচন আয়োজনে যথাযথ ব্যবস্থা নেবার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসুর সঞ্চালনায় বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চের মুখপাত্র নূরে আলম দুর্জয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আলী আকবর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম।
বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন  করেন ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তানভীর রুসমত।

বাংলাদেশ রাজনীতি