৭ দিনের মধ্যে বিএনপি নেতাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

৭ দিনের মধ্যে বিএনপি নেতাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

হরতালে গাড়ি পোড়ানোর ও সচিবালয়ে ককটেল বিস্ফোরণে দুটি মামলায় অভিযুক্ত বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোট নেতাদের জামিনের আবেদনে বিভক্ত রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

উভয় মামলায় পৃথক শুনানি নিয়ে দেওয়া রায়ে কনিষ্ঠ বিচারপতি আগামী ৭ দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আইন শৃঙখলা বাহিনীকে এই ৭ দিনের মধ্যে অভিযুক্ত নেতাদের গ্রেফতার বা কোনো ধরনের হয়রানি না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

অপরদিকে জেষ্ঠ্য বিচারপতি চার্জশিট না হওয়া পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও নজরুল ইসলাম তালুকদারের বেঞ্চ মামলা দুটিতে এই বিভক্ত রায় দেন।

বিষয়টি সুরাহার জন্য এখন প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হবে। তিনি এর সুরাহায় তৃতীয় বেঞ্চ গঠন করবেন।

তেজগাঁও থানায় দায়ের করা গাড়ি পোড়ানোর মামলার ওপর প্রথম শুনানি নিয়ে বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি আদালতে উপস্থিত সকল অভিযুক্তকেই ৭ দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। তবে জেষ্ঠ্য বিচারপতি চার্জশিট না হওয়া পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।

তেজগাঁও থানার মামলার আদেশের পর  বিএনপিসহ জোট নেতাদের বিরুদ্ধে সচিবালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের মামলার শুনানি শুরু হয়। এই মামলায় জেষ্ঠ্য বিচারপতি একইভাবে চার্জশিট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন। কনিষ্ঠ বিচারপতি সাত দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পন করতে অভিযুক্তদের নির্দেশ দেন।

তবে উভয় মামলায় জামায়াতের যে ক’জন নেতা-কর্মী অভিযুক্ত রয়েছেন তাদের এই আদেশের অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। তাদের নামে কোনো জামিন আবেদন না করা এবং আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালতের এই নির্দেশ তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে না।

সোমবার দুপুর সোয়া ২টার পরপর প্রথম মামলার শুনানি শুরু হয়। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে শুনানি চলে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আসামি পে শুনানি করেন। সরকার পে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এমকে রহমান। এছাড়া বিএনপি নেতাদের পে আদালতে ব্যারিস্টার মওদুদকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল প্রমূখ।

এর আগে দুপুর পৌনে ২টায় আদালতকে প্রবেশ করেন জামিনপ্রার্থী বিএনপি নেতারা। তাদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী আদালত কে ঢুকে পড়লে শুনানি শুরু বিলম্বিত হয়। পরে তাদের বের করার নির্দেশ দিতে বিচারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এমকে রহমান। তাদের বের করে দেওয়ার পরই শুরু হয় শুনানি কার্যক্রম।

মামলা দায়েরের ঘটনায় টানা এক সপ্তাহ আত্মগোপনে থাকার পর রোববার বিকেল ও রাতে এবং সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে ঢোকেন বিএনপি নেতারা ।

আদালতের রায়ের পর ব্যারিস্টার মওদুদ সাংবাদিকদের বলেন, আইনের লড়াইয়ে প্রথম বিজয় হয়েছে। বিভক্ত আদেশ হয়েছে। বিষয়টি এখন প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। বিষয়টি সুরাহার জন্য তিনি এখন তৃতীয় বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তাদের পুলিশ হয়রানি করতে পারবে না। তারা এখন থেকে মুক্ত।

আসামীদের মধ্যে আদালতে হাজির হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাদেক হোসেন খোকা, আ স ম হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, রেহানা আখতার রানু, সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, শাম্মী আখতার,  রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাইফুল আলম নিরব, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, এলডিপির সভাপতি ড. অলি আহমেদ, এনপিপির সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নিলু, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান রহমান পার্থ প্রমূখ।

উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিলের হরতালে সচিবালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় সোমবার সকালে তাদের জামিনের আবেদন জানান ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। আদালত তখন দুপুর ২টায় শুনানির সময় ধার্য করেন।

রাজনীতি