বুধ-বৃহস্পতি ফের হরতাল!

বুধ-বৃহস্পতি ফের হরতাল!

আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার ফের হরতাল দিচ্ছে বিএনপি। রোববার বিকেলে নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় সংবাদ সম্মেলনে সোমবার রাজধানীসহ সারা দেশে আরো এক দফা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হবে। আর সোমবার বিক্ষোভ শেষে দেওয়া হবে হরতালের ঘোষণা।

দলটির একাধিক সিনিয়র নেতা হরতাল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণার খবর নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানিয়েছেন, রোববার বিকেলের সংবাদ সম্মেলনেই বিক্ষোভের ঘোষণা দেবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এরপর রাতে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বৈঠকে হরতালের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

‘প্রকৃতপক্ষে হরতালের বিষয়টি চূড়ান্তই হয়ে আছে’ দাবি করে তারা বলেন, ‘হরতাল কার্যকর করার কৌশল নিয়েই মূলত আলোচনা হবে রাতের বৈঠকে।’

তারা আরো জানান, অনেকটা আলটিমেটামের মতো করেই হরতাল ও বিক্ষোভের ঘোষণা দেবেন ব্যারিস্টার মওদুদ।

তিনি বলবেন, মঙ্গলবারের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলের শীর্ষ নেতাদের নামে দেওয়া মামলা প্রত্যাহার, রুহুল কবীর রিজভী ও কামরুজ্জামান রতনের মুক্তি এবং নিখোঁজ ইলিয়াস আলীকে ফেরত না দিলে বুধ ও বৃহস্পতিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল করবে বিএনপি।

এজন্য সারাদেশের নেতা-কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী ‘নিখোঁজ’ হওয়ার পর ২২, ২৩ ও ২৪ এপ্রিল পর পর তিন দিন দেশব্যাপী সকাল সন্ধ্যা হরতাল করে বিএনপি। এরপর চার দিন বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় দফায় পরপর দু’দিন হরতাল করে ২৯ ও ৩০ এপ্রিল।

এদিকে হরতালে গাড়ি পোড়ানো ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ২৯ এপ্রিল রাতে তেজগাঁ থানায় এবং সচিবালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে ৩০ এপ্রিল সকালে শাহবাগ থানায় পরপর দু’টি মামলা হয়। ওই দুই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান ও রুহুল কবীর রিজভীসহ ১৮ দলীয় জোটের ৪৫ শীর্ষ নেতাকে আসামি করা হয়।

২৯ এপ্রিল রাতে বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান রতনকে এবং ৩০ এপ্রিল হরতাল শেষে রিজভীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার এড়াতে মামলার অপর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।

এতে ভাটা পড়ে বিএনপির কঠোর কর্মসূচিতে। গত ৫ দিনে দফায় দফায় হরতালসহ রাজপথ-নৌপথ-রেলপথ অবরোধ, সচিবালয় ঘেরাও ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে অবস্থানে মতো কঠোর কর্মসূচির কথা শোনা গেলেও কার্যত তা হয়নি।

তবে দলীয় সূত্র বলছে, গত বুধবারের বিক্ষোভেই বিএনপি নেতারা জীবন বাজি রেখে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় রোববার হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তৃণমূলের আস্থা ও জনসমর্থন ধরে রাখতে এছাড়া বিকল্প নেই বিরোধী দলের।

বাংলাদেশ