আন্তর্জাতিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত চার্লস টেইলর

আন্তর্জাতিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত চার্লস টেইলর

জাতিসংঘ সমর্থিত একটি আন্তর্জাতিক আদালতে যুদ্ধপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন লাইবেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট চার্লস টেইলর। তিনিই প্রথম আফ্রিকান রাষ্ট্রপ্রধান যাকে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুন্যাল যুদ্ধাপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করলেন।

নেদারল্যান্ডের রাজধানী হেগে অবস্থিত সিয়েরালিয়ন সংক্রান্ত বিশেষ আদালত বৃহস্পতিবার চার্লস টেইলরকে দোষী সাব্যস্ত করে। ৬৪ বছর বয়সী টেইলর আদালতে মোট ১১ টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে হত্যা, ধর্ষন, শিশুদের জোরপূর্বক যুদ্ধ করা সহ যৌন দাসত্বে নিযুক্ত হতে বাধ্য করা ইত্যাদি। সিয়েরা লিয়নের গৃহযুদ্ধের সময় এ সব অপকর্ম সংঘটিত হয়। ওই যুদ্ধে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিহত হয় বলে ধারণা করা হয়। গৃহযুদ্ধে সিয়েরা লিয়নের বিদ্রোহী রেভ্যুলশনারি ইউনাইটেড ফ্রন্ট(আরইউএফ) যোদ্ধাদের সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দেন টেইলর।

আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক প্যানেলের প্রধান রিচার্ড লুসিক অভিযোগ পড়ে শোনানোর সময় বলেন, ‘আদালত সর্বসম্মতভাবে উল্লিখিত অপরাধের দায়ে আপনাকে দোষী সাব্যস্ত করছে।’ এরপর তার বিরুদ্ধে একে একে ১১ টি অভিযোগ পড়ে শোনান রিচার্ড লুসিক।

আদালতের রায় অনুযায়ী টেইলর ১৯৯৭ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র সিয়েরা লিয়নের রেভ্যুলশনারি ইউনাইটেড ফ্রন্ট(আরইউএফ) বিদ্রোহীদের সহায়তা ও নেতৃত্ব প্রদান করেন।

আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চার্লস টেইলর ছিলেন এই কুখ্যাত বিদ্রোহী গ্রুপটির প্রধান সহায়তাকারী, পৃষ্ঠপোষক ও হত্যাযজ্ঞের মূল পরিকল্পনাকারী।

আদালত জানায়, আরইউএফ ১৯৯৯ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গৃহযুদ্ধকে আরো তিন বছর প্রলম্বিত করে। যুদ্ধে টেইলর সিয়েরা লিয়নের হীরক ক্ষেত্রগুলোতে নিজের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেন। এই হীরা বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে তিনি যুদ্ধের খরচ পরিচালনা করতেন বলেও আদালত অভিযোগ করে। তবে টেইলর সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বৃহস্পতিবার আদালত টেইলরকে দোষী সাব্যস্ত করলেও আগামী ১৬ মে চূড়ান্তভাবে রায় ঘোষণা করা হবে। দণ্ড কার্যকর আগামী ৩০ মে থেকে শুরু হবে। টেইলর তার বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। সাজার মেয়াদ ব্রিটেনে কাটাতে হতে পারে বলে ‍জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।

আন্তর্জাতিক