বিক্ষোভের মুখে গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ও রাজউক চেয়ারম্যান মস্তুল ছাড়লেন

বিক্ষোভের মুখে গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ও রাজউক চেয়ারম্যান মস্তুল ছাড়লেন

রাজউকের দীর্ঘদিনের শোষণের প্রতিবাদে এবার বিদ্রোহ করেছেন মস্তুল গ্রামবাসী। খিলক্ষেত থানার ডুমনি ইউনিয়নের মস্তুল গ্রামের হাজারো বাসিন্দারা রাজউকের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসেন মঙ্গলবার।

এদিন তাদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন রাজউক চেয়ারম্যান ও গণপূর্ত মন্ত্রী।

এলাকাবাসী বালু নদীর ওপর নির্মাণাধীন ১০৮ মিটার ব্রিজের কাজ বন্ধ করে দেন। রাস্তা অবরোধ করে রাস্তার ওপর আগুন জ্বালিয়ে রাজউকের ক্যাম্প অফিস ভাঙচুর করেন।

এলাকাবাসী জানান, মঙ্গলবার সকালে মস্তুল গ্রামে রাজউকের ক্যাম্প অফিসে ডুমনী এলাকাবাসীর সঙ্গে বসার কথা দিয়েছিলেন রাজউক চেয়ারম্যান মো. নুরুল হুদা। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচল প্রকল্প পর্যন্ত ৩০০ ফুট রাস্তার কারণে মস্তুল গ্রামবাসীর মতোই খিলক্ষেত থানার অনেক মূল অধিবাসীদের জমি অধিগ্রহণ করেছিল রাজউক। কিন্তু বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও সেসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পূর্বাচলে প্লট বুঝিয়ে দেয়নি রাজউক।

এদিকে ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) এ রাজউকের ৩০০ ফুট প্রশস্ত সংযোগ সড়কের দু’পাশে আবার নতুন করে ১০০ ফুট করে মোট ২০০ ফুট ওয়াটার বডি রাখার জন্যে জমি অধিগ্রহণ করতে চাচ্ছে রাজউক। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন মস্তুলবাসী।

মঙ্গলবার ১১টার দিকে মস্তুলে এলে গ্রামবাসীর বিক্ষোভের মুখে তিনি স্থান ত্যাগ করেন। এ সময় গণপূর্ত মন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানান এলাকাবাসী।

মস্তুলের পথে পথে এখন প্রতিবাদের ব্যানার ‘জান দেব, তবু জমি দেব না’।

ডুমনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সকালে রাজউক চেয়ারম্যান এবং গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী সকালে মস্তুল এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা ছিল। সে অনুযায়ী ব্রিজ নির্মাণের স্থানে রাজউকের প্রকল্প অফিসে বৈঠকের আয়োজনও করা হয়েছিল। কিন্তু তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ দেখে স্থান ত্যাগ করেন। এরপর মস্তুলবাসী আরো বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন। তারা ব্রিজ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। প্রকল্প অফিস ভাঙচুর করেন।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার হেলালউদ্দিন স্বপন জানান, রাস্তা এবং ব্রিজের জন্যে জমি অধিগ্রহণের পর ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে পূর্বাচলে প্লট দেওয়ার কথা ছিল রাজউকের। কিন্তু রাজউক চেয়ারম্যান শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়ে গেছেন, কথা রাখেননি। এ পর্যন্ত ৩ বার বসা হয়েছে উনার সঙ্গে কিন্তু টালবাহানা করে সময়ক্ষেপন করেছেন তিনি।

এখন আবার ওয়াটার বডির কথা বলে আবারো রাস্তার উভয় পাশে জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা চলছে। ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী এর প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তারা নিজেদের জীবনের বিনিময়ে হলেও জমি ছাড়বেন না।

হেলাল বলেন, কুড়িল থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত ৩০০ ফুট সংযোগ রাস্তার ফলে খিলক্ষেত থানার হাজার হাজার লোক নিজেদের জমি হারিয়েছেন। এখন আবার ২০০ ফুট জমি অধিগ্রহণ হলে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। শুধু মস্তুল গ্রামেরই ৫শ’ থেকে ৭শ’ পরিবার নিঃস্ব হবে বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে রাজউক চেয়ারম্যান ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ইছাপুর হয়ে খিলক্ষেত দিয়ে পালিয়ে গেছেন।

ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী মাযহারুল হক বাচ্চু, মাহবুব আলম স্বপন, হাবিবুর রহমান, ওহিদ মিয়া, ইউসুফ আলী, নাসির মিয়া ও সজিবুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ‘৯৬ সালে জমি অধিগ্রহণের সময় রাজউক আমাদেরকে বলেছিল, প্লট দেওয়া হবে। এ জন্যে ৫০ হাজার টাকা করে দিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু এতোদিনেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি।’

এলাকাবাসী আরো বলেন, তাদের প্লট বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত এখানে রাজউকের সকল ধরনের কাজ বন্ধ থাকবে।

এ সময় রাজউক চেয়ারম্যানকে ঠক, ভণ্ড ও প্রতারিত বলে উল্লেখ করেন গ্রামবাসী। পূর্ব ঘোষিত প্লট বুঝিয়ে না দিলে এবং ওয়াটার বডির জন্যে জমি অধিগ্রহণ করতে চাইলে তার ফল ভাল হবে না বলে রাজউক চেয়ারম্যানকে সতর্ক করেন তারা। তাদের শর্ত না মানা হলে মস্তুলে রাজউকের সকল ধরনের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হবে।

বাংলাদেশ