মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে বকেয়া ৫ শতাংশ আয়করও দিতে হবে

মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে বকেয়া ৫ শতাংশ আয়করও দিতে হবে

মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করার পরবর্তী বছরগুলোর জন্যও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাড়ে ৪২ শতাংশ হারে আয়কর পরিশোধ করতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রসঙ্গত মার্চেন্ট ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান হিসেবে সাড়ে ৩৭ শতাংশ হারে আয়কর দিয়ে আসছিলো। কিন্তু, এনবিআরএর এ সিদ্ধান্তের ফলে মার্চেন্ট ব্যাংকারদের পূর্ববর্তী বছরের জন্যও বকেয়া ৫ শতাংশ আয়কর পরিশোধ করতে হবে।

কিন্তু গত ১৩ মার্চ রাজস্ব বোর্ডের রেভিনিউ অ্যাকাউন্টিং উইং-এর উপ-কর কমিশনার আসমা দিনা গনি স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে ব্যানকো ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে সাড়ে ৩৭ শতাংশের পরবর্তী সাড়ে ৪২ শতাংশ হারে আয়কর পরিশোধের নির্দেশ প্রদান করে।

এরপর ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি মার্চেন্ট ব্যাংকেই সাড়ে ৪২ শতাংশ হারে আয়কর পরিশোধ করতে এনবিআর থেকে চিঠি দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো আইন লঙ্ঘন করে ৫ শতাংশ কম কর পরিশোধ করে আসছে।

তবে বিষয়টি এনবিআরের নজরে আসার কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠির মাধ্যমে সাড়ে ৪২ শতাংশ হারে আয়কর পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই হারে বকেয়া ৫ শতাংশ করও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আদায় করতে হবে বলে জানান তিনি।

তবে ভুলবশত যে পরিমাণ আয়কর কম আদায় হয়েছে তা কিভাবে আদায় করা হবে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে মার্চেন্ট ব্যাংকাররা বলছেন, যেহেতু মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) আওতায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায় নয় সুতরাং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়।

মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো সেবা খাতের প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে যে হারে আয়কর প্রদান করা প্রয়োজন সেই হারে আয়কর দিচ্ছে বলে জানান তারা।

জানা গেছে, যে সকল প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে এনবিআর চিঠি দিয়ে অতিরিক্ত হারে আয়কর পরিশোধ করতে বলেছে, ওই প্রতিষ্ঠান তাদের পক্ষ থেকে রাজস্ব বোর্ডের দাবির বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছে।

প্রসঙ্গত সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংক ও পোর্টফলিও) বিধিমালা-১৯৯৬ এর মাধ্যমে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ আইনের আওতায় ১৯৯৮ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করে বর্তমানে ৫০টি মার্চেন্ট ব্যাংক পুঁজিবাজারে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অর্থ বাণিজ্য