রানুর বক্তব্য নিয়ে সংসদে অনির্ধারিত বিতর্ক

রানুর বক্তব্য নিয়ে সংসদে অনির্ধারিত বিতর্ক

বিএনপির সংরক্ষিত এমপি রেহানা আক্তার রানুর বক্তব্য নিয়ে অনির্ধারিত বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন সরকার ও বিরোধী দলীয় এমপিরা।

রোববার জাতীয় সংসদে মাগরিবের নামাজের বিরতির পরে এ ঘটনা ঘটে। বিরতির পরে সংসদের বৈঠক শুরু হলে জাসদের মইন উদ্দিন খান বাদল পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে রানুর বক্তব্যের সমালোচনা করলে এ বিতর্ক শুরু হয়।

বাদলের পরে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক ও সরকারদলীয় চিফ হুইপ আব্দুস শহীদও বক্তব্য দেন।

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বাদল বলেন, ‘আজকে খুব দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কিছু কথা বলতে চাই। একজন মাননীয় সদস্য যে ভাষায় বক্তব্য দিলেন তাতে জনগণের সামনে কি উদাহরণ তৈরি হলো? সংসদের পরিবেশ নষ্ট হলে স্বাভাবিক ভাবে জনগণের সমানে বাজে উদাহরণ তৈরি করে।’

তিনি বলেন, ‘তিনি নারী হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে আমার লজ্জা হয়।’

রানুর বক্তব্য আদালত ও রাষ্ট্রবিরোধী বলেও বাদল জানান।

এসময় তিনি বলেন, ‘চিৎকার করে লাভ হবেনা। যারা চিৎকার করতে চান। কথা বলতে বলতে এমন জায়গায় চলে যাচ্ছেন তাতে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হচ্ছে। এতটুকু যোগ্যতা থাকা উচিত যে কোথায় কতটুকু বলবো সেটা বুঝতে হবে। এধরনের আচরণ ও ভাষা পরিহার করে আসতে হবে।’

বাদল তার বক্তব্যের মধ্যে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি থেকে পড়ে শোনান।

বাদলের পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘ভালো লাগলো। বাদল সাহেবের কাছ থেকে রুলস অব প্রসিডিউর শিখতে হচ্ছে।’

বাদলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকারের শেষ সময়ে সুন্দর কথা বলে মন্ত্রী হওয়া যাবে না।’

স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘২৫ জানুয়ারি এ অধিবেশন শুরু হয়েছে। এরপরে এ সংসদে যে ভাষায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াইর রহমান, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কথা বলা হয়েছে তা আমাদের কাছে রয়েছে।’

ফারুক বলেন, ‘আমাদের শালীনতা শেখাতে হবে না। মাননীয় স্পিকার আপনার ডানদিকে (সরকারদলীয়) অশালীন কথা বন্ধ হলে বামদিক (বিরোধীদলীয়) থেকেও বন্ধ হবে।’

এরপর ফারুক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সমালোচনা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কেন তিনি সৌদির ভিসা পেলেন না? কেন কূটনীতিককে হত্যা করা হলো? আমার লজ্জা হয়। যে সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবের ভিসা পায় না সে সরকারের প্রতি আমার ঘৃণা হয়।’

এর পর আব্দুস শহীদ ফ্লোর নিয়ে বলেন, ‘বিরোধীদলীয় সদস্যরা কেন সংসদে এসেছেন তা জাতি জানে। আর মাত্র ৮দিন অধিবেশন চললে তাদের সদস্য পদ থাকবে না। এজন্যই তারা সংসদে এসেছেন। বেতন-ভাতা নেওয়ার জন্যই তারা সংসদে এসছেন।’

এসময় বিরোধীদলের সদস্যরা চিৎকার করে শহীদের কথার প্রতিবাদ জানান। পরে শহীদ বলেন, ‘একটু আগে একজন বিরোধীদলীয় সদস্য অশালীন ভাষায় কথা বলেছে। মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা টেবিল চাপড়ে যেভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। এতে মনে হয়েছে আফ্রিকার জঙ্গল থেকে বক্তব্য দিচ্ছেন।’

বাংলাদেশ