লগি-বৈঠা হাতে নেতা-কর্মীরা জনসভায়

লগি-বৈঠা হাতে নেতা-কর্মীরা জনসভায়

আওয়ামী লীগসহ শরীক দল এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর অনেক নেতাকর্মী-সমর্থক রাজধানীতে ১৪ দলের জনসভায় হাজির হয়েছেন লগি-বৈঠা নিয়ে।

বুধবার বেলা ১২টার পর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগসহ শরীক দলের নেতাকর্মী-সমর্থকরা বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে মূল সভামঞ্চের কাছে আসতে শুরু করেন। বেলা পৌনে ২টায় সভা শুরু হলেও তখনো আসছিলেন নেতাকর্মীরা।

বিকাল ৩টার দিকে মূল সভামঞ্চ থেকে শিল্প ব্যাংকের সামনে, দক্ষিণে মহানগর নাট্যমঞ্চ, পশ্চিমে সচিবালয় গেইট এবং উত্তরে পল্টন মোড় পর্যন্ত- জনসমাগম হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপির মহাসামবেশের একদিন পরেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাধা, দুর্নীতিবাজদের রক্ষা ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এই জনসভা করছে ১৪ দল।

বেলা পৌনে ৩টার দিকে জাতীয় শ্রমিক লীগের অন্তর্ভূক্ত বেশ কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা লাল কাপড়ের ব্যানার ফেস্টুন এবং বাঁশের তৈরি লগি ও বৈঠা নিয়ে জনসভায় যোগ দেন। তাদের আসতে বাধা না দিলেও সভামঞ্চের আশেপাশে অবস্থান নিতে দেয়নি পুলিশ।

এর পরপরই ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা চেয়ারম্যান ফাহমি গোলন্দাজ বাবেলের নেতৃত্বে কয়েকশ লোকের একটি মিছিল মহানগর নাট্যমঞ্চ থেকে বের হয়ে সভাস্থলে হাজির হয়। সবার হাতেই দেখা যায় বাঁশ ও কাঠের লগি-বৈঠা।

২০০৬ সালের ১০ অক্টোবর চার দলীয় জোট সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে ১৪ দলীয় জোট লগি-বৈঠা নিয়ে মিছিল বের করলে পল্টন এলাকায় জামায়াতে ইসলামী কর্মীদের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে নিহত হন পাঁচজন।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে বুধবারের সমাবেশে আসা মহিলা আওয়ামী লীগের একটি মিছিলে দেখা যায় গার্মেন্ট কর্মীদের আধিক্য।

হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিলে অংশ নেওয়া রহিমা আক্তার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এলাকার এক আওয়ামী লীগ নেতা টাকা দিয়েছেন বলে তিনি মিছিলে এসেছেন।

কতো টাকা দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বলা যাইবো না।”

সকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাসে করে আরো অনেক গার্মেন্টে কর্মীর সঙ্গে তিনিও ঢাকায় এসেছেন বলে জানান রহিমা।

গোলাম দস্তগীর গাজীর নেতৃত্বে আসা একটি মিছিলেও নেতাকর্মীদের হাতে লাগি-বৈঠা দেখা গেছে।

এই মিছিলে অংশ নেওয়া রুবেল নামের এক যুবক বলেন, “হাতে বৈঠা থাকলে কোনো কিছুকেই ভয় হয় না। মনে ফিলিংস আসে।”

তাদেরকে ঢাকায় নিয়ে আসা এক নেতাই লগি-বৈঠা সরবারহ করেছেন বলে জানান ওই যুবক।

কাঠ ও বাঁশের বৈঠা নিয়ে মিছিল করতে করতে সমাবশেস্থলে এসেছেন বাংলাদেশ ছিন্নমূল হকার্স লীগের নেতাকর্মীরাও।

ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলামের নেতৃত্বে আসা মিছিলের সামনে ছিল অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের শোভাযাত্রা। হর্ন বাজাতে বাজাতে মিছিলটি সভামঞ্চের কাছে গেলে অনেককেই বিড়ম্বনায় পড়েন।

এছাড়া লালবাগ থেকে মোস্তফা জামাল মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে আসা মিছিলের সামনেও ছিল শতাধিক মটরসাইকেলের শোভাযাত্রা।

রাজনীতি