অন্যরূপে পাকিস্তানের ক্রিকেট

অন্যরূপে পাকিস্তানের ক্রিকেট

আগের সফরের মতো নিরাপত্তা নিয়ে অত বেশি কড়াকড়ি নেই। খুব কাছে গিয়েও অনুশীলন দেখার অনুমতি মিলছে। দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের মেলবন্ধন গড়ে উঠার একটা আভাস। আরে তাদের কোচ ডেভ হোয়াটমোরও সাংবাদিকদের ওপর চটলেন না!

বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যে চার বছর কাটিয়েছেন হোয়াটমোর, তখন তার কাছে যাওয়া ছিলো বিপজ্জনক। কখন কি বলে ফেলেন, সে ভয়ে কেউ কাছে যাওয়ার সাহস করতো না। সেই হোয়াটমোরই তো? তাহলে কি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) থেকে সবাইকে শিখিয়ে পড়িয়ে পাঠানো হয়েছে?

২০০৯ সালের ৩ মার্চ লাহোরের লিবার্টি চত্বরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিষিদ্ধ। তাদেরকে হোম সিরিজও খেলতে হয় নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। নির্বাসিত ক্রিকেটকে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। এপ্রিলে বাংলাদেশ দলের পাকিস্তানে যাওয়ার কথা। সে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ২ থেকে ৫ মার্চ ৯ সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক দল লাহোর এবং করাচি ঘুরে এসেছে। সফরের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল পাকিস্তানকে নিরাপদ ঘোষণা করে এসেছেন। পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে পিসিবি চেয়ারম্যান জাকা আশরাফের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন। এত কিছুর পর বন্ধুত্বপূর্ণ একটা সম্পর্ক না হলে হয়।

আরও অনেক দিক থেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে পাকিস্তানের ক্রিকেট জড়িয়ে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের নিরঙ্কুশ প্রধান্য ছিলো। মোহাম্মদ হাফিজ, শহীদ আফ্রিদি, সাঈদ আজমল, মোহাম্মদ হাফিজ, কামরান আকমল, নাসির জামশেদসহ বড় বড় তারকা ক্রিকেটাররা খেলেছেন। বিপিএলে পারফরর্ম করেই তো নাসির জামশেদ পাকিস্তান দলে।

সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের কন্ডিশন সম্পর্কে ভারত, শ্রীলঙ্কার চেয়ে পাকিস্তান অনেক বেশি এগিয়ে। ইউনুস খান, মিসবাহ উল হকের মতো যারা বিপিএলে খেলেননি তাদের জন্যও কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তিন মাস আগে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট সিরিজ খেলে গেছে পাকিস্তান। এত কিছুর পরও সবার আগে ঢাকায় এসেছে পাকিস্তানের দলটি। শুক্রবার লম্বা সময় ধরে অনুশীলনও করে।

ব্যাটেবলের সংযোগ বাড়াতে কোচ আলাদা আলাদা কয়েকজনকে নিয়ে কাজও করলেন। না করে উপায় আছে, প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে ব্যর্থ হলে তো রক্ষা নেই। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তান যে ভাবে দাপিয়ে খেলেছে, তাতে করে এশিয়া কাপের ফেভারিটের তকমা তাদের গায়েই লাগে। মিসবাহ উল হকের হাতে এশিয়া কাপের শিরোপা উঠলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যদিও ইউনুস খানের কাছে এনিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিলো। তার উত্তর না দিয়ে মুচকি হেসেছেন।

খেলাধূলা