ভারতজুড়ে শ্রমিক-ধর্মঘট পালিত

ভারতজুড়ে শ্রমিক-ধর্মঘট পালিত

নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ও ন্যূনতম মজুরির দাবিসহ বেশ কয়েক দফা দাবিতে ভারতের শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর ডাকা ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘটে গতকাল মঙ্গলবার প্রায় সারা দেশ অচল হয়ে পড়ে। গণপরিবহন, আর্থিক লেনদেন-ব্যবস্থা ও ডাকপরিবহন-ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে।
গত সোমবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটে সরকার-সমর্থিত ট্রেড ইউনিয়নগুলোও যোগ দিয়েছে। ধর্মঘটে লাখ লাখ শ্রমিক অংশ নেন।
পিটিআইয়ের এক খবরে বলা হয়েছে, বিভিন্ন জেলায় শতাধিক ধর্মঘট সমর্থনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের মহাসচিব গুরুদাস দাশগুপ্ত এএফপিকে বলেন, ‘এই ধর্মঘট ঐতিহাসিক। কারণ, এই প্রথম দেশের বৃহৎ সব ট্রেড ইউনিয়ন ঐকবদ্ধ হয়ে সরকারের শ্রমিকবিরোধী নীতির প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’
শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া পাঁচ কোটি শ্রমিকের চাকরি স্থায়ীকরণ, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সরকারের আরও কঠোর ভূমিকা পালন প্রভৃতি।
গুরুদাস দাশগুপ্ত আরও বলেন, ‘এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য সরকারকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকার আমলে নেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা এই কর্মসূচি পালন করছি।’ সরকারকে জনবিরোধী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুম্বাইয়ের সব কটি ব্যাংক গতকাল বন্ধ ছিল বলে দাবি করেন অল ইন্ডিয়া ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব বিশ্বাস উতাগি। নয়াদিল্লিতে লোকজনকে যানবাহনের ভোগান্তি পোহাতে হয়। হায়দরাবাদে ধর্মঘটের সময় ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় শ্রমিকরা।
ইন্ডিয়া ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট জি সঞ্জিব রেড্ডি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো, চুক্তিভিত্তিক শ্রমের বিলোপ ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ। এই ধর্মঘটের মাধ্যমে সরকারের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
আমাদের কলকাতা প্রতিনিধি জানান, গতকাল ধর্মঘট চলাকালে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অধিকাংশ ব্যাংক, দোকান ও অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। কলকাতার মোমিনপুরে একটি ট্যাক্সিতে আগুন লাগানো হয়েছে। রাজারহাটে সিপিএম-তৃণমূল সংঘর্ষ হয়েছে। এই সংঘর্ষের সময় তৃণমূলের বিধায়কের নিরাপত্তারক্ষীর একটি রিভলবার খোয়া গেছে। যাদবপুরে সিপিএমের আঞ্চলিক অফিস ভাঙচুর হয়েছে।
উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে তৃণমূল-সিপিএম সংঘর্ষ হয়েছে। কোচবিহারে একটি সরকারি বাস ভাঙচুর হয়েছে। বারাসাতে সংঘর্ষ হয়েছে। বনগাঁ, শান্তিপুর, গেদে, পলাশী, কাটোয়া, আসানসোলসহ শিয়ালদহের বিভিন্ন স্টেশনে অবরোধ হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের প্রধান আর কে পচানন্দ বলেছেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেট্রো স্টেশন, বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়।

আন্তর্জাতিক