ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য একনেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনুমোদন

ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য একনেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনুমোদন

 নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। যেখানে এক লাখ রোহিঙ্গাকে সাময়িক আশ্রয় দেওয়া হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২ হাজার ৩১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
নোয়াখালীল ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গা আবাসনসহ ১০ হাজার ৯৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১৪টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ৪৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৫০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবোংলানগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল।
এ সময় পরিকল্পনা সচিব মো: জিয়াউল ইসলাম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব মো:মফিজুল ইসলাম,পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা সচিব কে এম মোজ্জামেল হকসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যেই মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে। আশা করছি ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে সেদেশের নাগরিকরা ফেরত যাওয়া শুরু করবে। এরপরও তারা যতদিন এখানে অবস্থান করবেন তাদের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে ভাসানচরে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,সরকার সবসময় বাণিজ্যিক লাভ দেখে প্রকল্প হাতে নেয় না। মিয়ানমার থেকে আসা সেদেশের নাগরিকরা কষ্টে আছেন। তাদের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আশা করি আমরা নিজেদের টাকায় কাজ শুরু করলেও বিদেশীরা সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী এক বছরের মধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের সবগুলো পাকা রাস্তা পুর্নবাসনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখন থেকে নতুন রাস্তা না করে পুরনো রাস্তাগুলো আবার পাকা করতে হবে। এছাড়া এখন থেকে রাস্তা তৈরির সময় দু’পাশে জলাধার এবং ধীর গতির যান চলাচলের ব্যবস্থা রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
‘আশ্রয়ণ-৩ (নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানাধীন চরঈশ্বর ইউনিয়নস্থ ভাসানচরে নিজ দেশ থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১ লাখ মিয়ানমারের নাগরিকদের আবাসন এবং দ্বীপের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ’প্রকল্পের পটভূমিতে উল্লেখ করা হয়েছে,সরকারি অর্থেই এক লাখ রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি চলতি বছর ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে। নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানাধীন চরঈশ্বর ইউনিয়নের ভাসানচরে এক লাখ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা এবং দ্বীপটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করাই প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে-ভূমি উন্নয়ন ও শোর প্রোটেকশন ওয়ার্ক,বাধ নির্মাণ,১ লাখ ৩ হাজার ২০০ জন মানুষের বসবাসের জন্য ১২০টি গুচ্ছ গ্রামে ১ হাজার ৪৪০টি ব্যারাক হাউজ ও ১২০টি শেল্টার স্টেশন নির্মাণ, উপসনালয় নির্মাণ,দ্বীপটির নিরাপত্তার জন্য নৌ বাহিনীর অফিস ভবন ও বাস ভবন, অভ্যন্তরীণ সড়ক, পানি নিস্কাশন অবকাঠামো, নলকূপ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামো নির্মাণ, পেরিমিটার ফেন্সিং ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ, বিভিন্ন যানবাহন ক্রয়, গুদাম ঘর, জ্বালানি ট্যাঙ্ক, হেলিপ্যাড, চ্যানেল মার্কিং ও মুরিং বয়, বোট ল্যান্ডিং সাইট, মোবাইল টাওয়ার, রাডার স্টেশন, সিসিটিভি, সোলার প্যানেল,জেনারেটর ও বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন ইত্যাদি নির্মাণ করা হবে। ভাসানচর দ্বীপটি নোয়াখালী থেকে প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল, জাহাজ্জাইর চর থেকে ১১ নটিক্যাল মাইল, সন্দ্বীপ থেকে ৪ দশমিক ২ নটিক্যাল মাইল, পতেঙ্গা পয়েন্ট থেকে ২৮ নটিক্যাল মাইল এবং হাতিয়া থেকে ১৩ দশমিক ২ নটিক্যাল মাইল দূরত্বে অবস্থিত।
একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হচ্ছে- বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, ময়মনসিংহ জোন, এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৭৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৬০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় পর্যায়), ব্যয় হবে ৯৫০ কোটি টাকা। সিরাজগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন,এতে ব্যয় হবে ১৪৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ, ব্যয় হবে ৯৯০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। জিগাতলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২৮৮টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ, ব্যয় ৩০৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। মতিঝিল সরকারি কলোনিতে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ, ব্যয় ২৫৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা রেলওয়ে ওভারপাস নিমার্ণ,ব্যয় ৯৪ কোটি ৬ লাখ টাকা।শেরপুর লঙ্গরপাড়া-শ্রীবর্দী সড়ক উন্নয়ন,ব্যয় ৮২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। উচ্চ মাধ্যমিক উপবৃত্তি প্রকল্প,ব্যয় ৭৯৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন,ব্যয় ২৩২ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

Leave a Reply