ক্রসফায়ার দিয়ে মানুষ মারার কোনো পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ক্রসফায়ার দিয়ে মানুষ মারার কোনো পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ক্রসফায়ার দিয়ে মানুষ মারার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি, এ যুদ্ধে জয়ী হতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি মেধাবী জাতি গড়তে চাই, মাদকমুক্ত যুবসমাজ দেখতে চাই। এজন্য ইয়াবা নামক ভয়াবহ মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছি। যে যুদ্ধে জয়ী না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। তবে আমরা কাউকে ক্রসফায়ার দিয়ে মারছি না। দেশে কাউকে ক্রসফায়ার দিয়ে মারার কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

আজ সোমবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সম্প্রসারণ সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘আমরা কোনো নিরীহ মানুষকে ধরছি না। কাউকে ধরলেও অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের শাস্তি হচ্ছে, জেল হচ্ছে। আমরা সবাইকে নিয়েই মাদকের বিরুদ্ধে লড়ছি। আমাদের সঙ্গে আছে মসজিদের ইমাম, সাধারণ জনতা। যুবসমাজ থেকে মাদক নামের ব্যাধি দূর না হওয়া পর্যন্ত দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এর আগে ফায়ার সার্ভিস সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য ছিল। তারা বলতো আগুন নিভে যাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আসেন। এখন সেই মন্তব্য মানুষের মাঝে আর নেই। এখন যেখানেই দুর্ঘটনা, যেখানেই আগুন লাগে সেখানেই হাজির হয় ফায়ার সার্ভিস। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে প্রাণ বেঁচে যায়, দুর্ঘটনা রোধ হয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকার ফায়ার সার্ভিসকে ঢেলে সাজাতে চায়। প্রতিটি উপজেলা শহরে একটি করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন করার কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসককে অত্যাধুনিক ২৫টি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হলো। আরও ৫০টি অ্যাম্বুলেন্স খুব শিগগিরই দেওয়া হবে।’

ফায়ার সার্ভিসে নতুন যোগ হওয়া অ্যাম্বুলেন্সগুলো ফোর হুইলার, যা পাহাড়, বালুময় রাস্তাসহ আঁকা-বাকা রাস্তা দিয়ে চলতে সক্ষম। এই অ্যাম্বুলেন্সে একসঙ্গে দুইজন রোগীকে নেওয়া যাবে। এছাড়া এ অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে সংরক্ষিত অক্সিজেন অন্য কোনো রোগী বা অ্যাম্বুলেন্সে সরবরাহ করা যাবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খান (অব), অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেইন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ প্রমুখ।

Leave a Reply