৭ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৯ ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত

৭ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৯ ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে সোমবার দিবাগত রাত ও মঙ্গলবার ভোরে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও নিজেদের মধ্যে ‘গোলাগুলিতে’ ১০ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

এর মধ্য কুমিল্লায় ২ জন, কুষ্টিয়ায় ২ জন, যশোরে ২ জন, ঢাকায় একজন, ময়মনসিংহে একজন, সাতক্ষীরায় একজন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন মারা গেছেন।

অভিযান শুরুর পর এ নিয়ে গত ১০ দিনে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০১ জন।

কুমিল্লা : কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ২ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জেলার মুরাদনগর উপজেলার গুঞ্জর এলাকায় গোমতী প্রতিরক্ষা বাঁধের পাশে ভাই ভাই ব্রিক ফিল্ডের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন লিটন ওরফে কানা লিটন (৪৩) এবং বাতেন (৩৪)।
পুলিশের দাবি, নিহত দুজনই মাদক ব্যবসায়ী।

লিটন উপজেলার পৈয়াপাথর এলাকার আবদুস ছামাদের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ৭টি মাদকের মামলা রয়েছে এবং বাতেন একই উপজেলার বাখরনগর গ্রামের সহিদ মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে ৮টি মাদকের মামলা রয়েছে।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মঞ্জুর আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল উপজেলার গুঞ্জুর এলাকায় গোমতী বাঁধের পাশে অবস্থান নেন। সেখানে মাদক ব্যবসায়ী কানা লিটন ও বাতেন এবং তাদের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও আত্মরক্ষায় ৫৩ রাউন্ড গুলি চালায়। উভয়পক্ষের গুলিবিনিময়ে লিটন ও বাতেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে কুমেক হাসপাতালে নেয়ার পথে উভয়ের মৃত্যু হয়।

এতে পুলিশের ৩ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান ও ৪০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া : জেলার দৌলতপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন মোকাদ্দেশ হোসেন (৪২) ও ফজলুর রহমান ওরফে টাইটেল (৪৮)।

গতকাল দিবাগত রাত ৩টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের শেয়ালা বটতলা মাঠে এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে।

দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর আলী জানান, মাদকদ্রব্য কেনাবেচার জন্য একদল মাদক ব্যবসায়ী দৌলতপুর উপজেলার শেয়ালা বটতলা মাঠে অবস্থান করছিল। এ সংবাদ পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ গুলিবিদ্ধ ২ জনকে উদ্ধার করে দৌলতপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, মোকাদ্দেশ হোসেন ও ফজলুর রহমান ওরফে টাইটেল পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। এদের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের আটটি করে মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আলম, আবদুর রাজ্জাক ও কনস্টেবল সুজিত কুমার আহত হয়েছেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, ৫টি গুলি, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন ও ২৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে।

যশোর : যশোরে মাদক ব্যবসায়ীদের কথিত গোলাগুলিতে ২ জন নিহত হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার ভোরে যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন যশোর শহরের রায়পাড়া এলাকার মানিক ও মন্ডলগাতি এলাকার আসর আলী।

পুলিশের দাবি, নিহত ২ জনই মাদক ব্যবসায়ী।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজমল হুদা জানান, মঙ্গলবার ভোরে যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় দুইদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ২ জনকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

তাদের মরদেহ উদ্ধার করে যশোর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

ঢাকা : রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন আশিয়ান সিটি মাঠ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তার নাম সুমন মিয়া ওরফে খুকু সুমন (৩২)।

গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

দক্ষিণখান থানার সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশের কাছে সংবাদ আসে কিছু মাদক ব্যবসায়ী আশিয়ান সিটির মাঠে অবস্থান করছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এতে মাদক ব্যবসায়ী সুমন গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সুমনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত পৌনে ২টায় মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে এক হাজার ইয়াবা, একটি ওয়ান শুটার গান, দুটি গুলি ও ৪টি ককটেল উদ্ধার করা হয় বলেও জানায় পুলিশ।

ময়মনসিংহ : পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মিজান (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

গতকাল দিবাগত রাত সোয়া ২টায় ভালুকার পাড়াগাও চটনপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি, মিজান শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাত।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. আশিকুর রহমান জানান, মাদক ভাগাভাগির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ গুলি করে। আত্মরক্ষার জন্য পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে এলাকা তল্লাশির সময় মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিক ডাকাতি মামলার আসামি মো. মিজানকে (৪৫) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মিজানকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ সময় ভালুকা থানার ওসি (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ ও এএসআই শাহ আলম গুরুতর আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইন, ৩টি গুলির খোসা, একটি রামদা ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

নিহত মিজানের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, ডাকাতিসহ ৯টি মামলা রয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।

সাতক্ষীরা : কলারোয়ায় আনিসুর রহমান (৪০) নামের এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, তিনি মাদক ব্যবসায়ী।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ জানান, গতকাল রাত সোয়া ২টায় তার কাছে খবর আসে যে দেয়াড়া ইউনিয়নের পিপলাপোলের মাঠে মাদক চোরাচালানিদের দুটি পক্ষ মাদক ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি করছে। এ খবর পেয়ে খোরদো পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম একদল পুলিশ সদস্য নিয়ে তাদের বিরত করার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তিনটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। কিছুক্ষণ পর গোলাগুলি থেমে গেলে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনিসুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি কলারোয়ার পাকুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলায় ১০টি মামলা রয়েছে।

তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার গান জব্দ করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় উপজেলায় জনি মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলা সদরের খালাজোড়া এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত জনি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার খাইয়ার এলাকার ফিরোজ মিয়ার ছেলে।

পুলিশের দাবি, মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাতদের দুপক্ষের গোলাগুলিতে জনি নিহত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতিসহ নানা অভিযোগে ৮টটি মামলা রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (কসবা-আখাউড়া সার্কেল) আবদুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাতে টহলরত পুলিশ সদস্যরা গোলাগুলির শব্দ শুনে খালাজেড়া এলাকায় গিয়ে দেখেন জনির গুলিবিদ্ধ মরদেহ পড়ে রয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান, দুটি কার্তুজ, দুটি বড় ছোরা ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ডাকাতি ও মাদক ব্যবসার টাকা নিয়ে দুপক্ষের গোলাগুলিতে জনি নিহত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আখাউড়া থানা ও আখাউড়া রেলওয়ে থানায় ৮টি মামলা রয়েছে।

Leave a Reply