‘স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ উচ্চ মর্যাদা অর্জন করেছে’

‘স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ উচ্চ মর্যাদা অর্জন করেছে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশ উচ্চ মর্যাদা অর্জন করেছে। স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে আমরা উচ্চ মর্যাদা পেয়েছি।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর মুগদায় জাতীয় নার্সিং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘উৎক্ষেপণ করা হয়েছে অত্যন্ত সফলভাবে। বাংলাদেশ এখন মহাকাশে অবস্থান করছে।’

ক্ষমতার ধারাবাহিকতা ছিল বলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে এদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছে। আবার, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিল বলেই আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে পেরেছে। আর, সরকার গঠন করে বাঙলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপকভাবে কাজ করেছে। আর, সেই কাজের ফলেই আমরা বাংলাদেশকে আজকে মহাকাশ পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গায়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার রঙের নকশার ওপর ইংরেজিতে লেখা রয়েছে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ সরকারের একটি মনোগ্রামও সেখানে রয়েছে।

বাংলাদেশ এতদিন বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া করে সম্প্রচার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ে গবেষণার কাজ চালিয়ে আসছিল; বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বাংলাদেশকে গুণতে হয় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের উপকারিতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শুধু যে বিনোদন হবে; তা নয়। এটা আমাদের সার্বিকভাবে কাজে লাগবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা ব্যবহার করতে পারব। আমাদের শিক্ষা, বিনোদন, চিকিৎসাসেবাসহ এমনকি প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে শুরু করে বিভিন্নক্ষেত্রে আমরা এখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারব।

শেখ হাসিনা বলেন, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এখন সারা বাংলাদেশে এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলে .. পাহাড়ি অঞ্চল, চরাঞ্চল ও দ্বীপাঞ্চল থেকে শুরু করে সমগ্র অঞ্চলেই এই সেবাটা পৌঁছে দিতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক ও নার্সদের উচিত রোগীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা। রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। কিন্তু যখন দিনে সরকারি চাকরি আর রাতে বেসরকারি চাকরি করেন তখন তো মেজাজ খারাপ হবেই।

তিনি বলেন, একজন মানুষ যখন রোগী হয়ে হাসপাতালে আসে, তখন ওষুধের চেয়েও ডাক্তার বা নার্সের ব্যবহার, কথাবার্তা ও সহানুভূতিশীল মনোভাব থেকেই অর্ধেক রোগী ভালো হয়ে যেতে পারে। মানুষকে সেবা দেয়ার মনোভাবই হচ্ছে ডাক্তার ও নার্সদের এই পেশার সবচেয়ে বড় কথা। তাদের মধ্যে সবসময় এই মানসিকতাটা থাকতে হবে। আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ এই বিষয়গুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশে লোকসংখ্যার তুলনায় ডাক্তার-নার্স এত কম ও তাদের এত বেশি রোগী দেখতে হয় যে, সবসময় সবার মেজাজ ঠিক রাখাও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিজেদের একটু সংযত হওয়া দরকার।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দিনভর সরকারি চাকরি করবেন, আর রাতে গিয়ে প্রাইভেট করবেন, তারপর তো মেজাজ এমনিই খারাপ হবে। এটা তো খুব স্বাভাবিক। ওই ক্ষেত্রেও আপনাদের একটু হিসেব করে চলা উচিত যে আপনি কতটা ধারণ করতে পারেন। ততটাই কাজ করেন।

আজ আন্তর্জাতিক নার্স দিবস। ১৮২০ সালের ১২ মে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে নার্সিং পেশার রূপকার ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল জন্মগ্রহণ করেন। তার সম্মানে ১২ মে বিশ্বব্যাপী দিবসটি উদযাপিত হয়।

বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।

Leave a Reply