রোহিঙ্গা বিষয়ে ওআইসি নিশ্চুপ থাকতে পারে না : প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা বিষয়ে ওআইসি নিশ্চুপ থাকতে পারে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যখন জাতিগত নির্মূলের মুখোমুখি তখন ওআইসি নিশ্চুপ থাকতে পারে না। রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বিতাড়িত করা হচ্ছে। আমি ওআইসির প্রতি আহ্বান জানাই আপনারা তাদের পাশে দাঁড়ান।

আজ শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫ তম সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সঃ) নিপীড়িত মানবতার পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। কাজেই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি যখন জাতিগত নির্মূলের মুখোমুখি, ওআইসি তখন নিশ্চুপ থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, নিপীড়িত মানবতার জন্য আমরা আমাদের চিত্ত ও সীমান্ত দুই-ই উন্মুক্ত করে দিয়েছি। মিয়ানমারের প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের ব্যথায় ব্যথিত।

১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর নিজের উদ্বাস্তু হয়ে বিদেশের মাটিতে কাটানোর অভিজ্ঞতাও ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সামনে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

ইতিহাসের এক ‘বিশেষ সন্ধিক্ষণে’ ঢাকায় ইসলামী পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটা সময় অতিক্রম করছি যখন প্রযুক্তি প্রবাহ ত্বরান্বিত হচ্ছে এবং যুব সমাজের কলেবর বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে অসমতা, অসহিষ্ণুতা ও সামাজিক অবিচার এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব। এসবের সমন্বিত প্রভাবে আমাদের ইসলামী চিন্তা-চেতনার মৌলিক ভিত্তি আজ হুমকির সম্মুখীন। এমন অবস্থা আগে কখনো আমরা প্রত্যক্ষ করিনি। মুসলিম বিশ্বে সংঘাত ও চরমপন্থার কথা তুলে ধরে চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আনার কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্ব আগে কখনো এত বেশি পরিমাণ সংঘাত, অভ্যন্তরীণ গোলযোগ, বিভাজন ও অস্থিরতার মুখোমুখি হয়নি। লক্ষ্য করা যায়নি এত ব্যাপক হারে বাস্তুহারা জনগোষ্ঠীর দেশান্তর। আজকে মুসলমান পরিচয়কে ভুলভাবে সহিংসতা ও চরমপন্থার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে।

এই অবস্থা চলতে পারে না মন্তব্য করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সময় এসেছে চিন্তা-চেতনা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনার।

‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’- বঙ্গবন্ধুর সময় নেওয়া বাংলাদেশের এ পররাষ্ট্র নীতি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মনে করি আজ ইসলামী বিশ্বে যেসব মতপার্থক্য ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা খোলামন নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দূর করা সম্ভব। রক্তপাত শুধু অপ্রয়োজনীয়ই নয় বরং তা আরও খারাপ পরিস্থিতির জন্ম দেয়।

তিনি বলেন, আমাদের ইসলামী বিশ্বের রূপকল্প এমন হতে হবে যাতে আমরা আমাদের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করতে পারি। আমাদের নিজেরাই সকল দ্বন্দ্ব-সংঘাতের সমাধান করতে পারি। দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথ আমাদের নিজেদেরই খুঁজে বের করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন ফলাফল-কেন্দ্রিক নতুন কৌশল-সম্বলিত একটি রূপান্তরিত ওআইসি।

মুসলিম বিশ্বের সমৃদ্ধি ও সামাজিক অগ্রগতর লক্ষ্যে কয়েকটি নিজের বেশ কয়েকটি চিন্তাভাবনার কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ বন্ধ, ইসলামী উম্মাহর মধ্যে বিভেদ বন্ধ এবং আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পথে যে কোনো বিরোধ নিষ্পত্তি করার প্রস্তাব তুলে ধরেন।

পৃথিবীর এক-পঞ্চমাংশ জনশক্তি, এক-তৃতীয়াংশের বেশি কৌশলগত সম্পদ এবং সম্ভাবনাময় কয়েকটি উদীয়মান শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ থাকার পরও মুসলিম বিশ্বের পিছিয়ে পড়া বা অমর্যাদাকর অবস্থায় থাকার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর, জরুরি মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ইসলামী সম্মেলন সংস্থার বলিষ্ঠ কর্মসূচিসহ একটি দ্রুত কার্যকর উন্নয়নমূলক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা আবশ্যক বলেও মনে করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ওআইসির মহাসচিব ইউসুফ এ ওথাইমিন, আইভরি কোস্টের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারসেল আমোন তানোহ, কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড।

এ ছাড়া তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ওআইসির বিভিন্ন আঞ্চলিক গ্রুপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

Leave a Reply