‘আগামী মাস থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযান’

‘আগামী মাস থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযান’

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগামী মাস থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে বিদ্যুৎ ভবনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘গ্রাহকদের মধ্যে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগামী মাস থেকে সারাদেশে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযান শুরু হবে। কোনো গ্রাহক অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবে না। এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ এ সময় তিনি জানান, রমজান মাসে যতটা কম সম্ভব আলোকসজ্জা কমিয়ে বিদ্যুৎ সরররাহ নিশ্চিত করা হবে।

সভায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রাহকদের হয়রানির দূর করতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করে প্রিপেইড বিদ্যুতের মিটার দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি অফিস, মার্কেট ও কর্মাশিয়াল প্রতিষ্ঠানে আগে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার সরররাহ করা হবে।’ তিনি বলেন, বিদ্যুৎ আমাদের কাছে যথেষ্ট আছে। আমরা বিদ্যুৎ বিক্রির জন্য গ্রাহক খুঁজছি।

নসরুল হামিদ বলেন, এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে খরচ হয় এক দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই টাকা দিয়ে ৮ থেকে ১০টি পদ্মা সেতু তৈরি করা যায়। তিনি বলেন, আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে এ পর্যন্ত ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছি। কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আগামী ৫ বছরে আরো ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হবে। চলতি মাসে জাতীয় গ্রিডে আরো এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন বিভিন্ন সংস্থা-কোম্পানি ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এতে বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ, ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

সভায় বিদ্যুৎ সচিব বলেন, ‘গ্যাসের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পেলে আমরা ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারব।’ বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিং সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে একটি অভিযোগ সেল গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহ বলেন, ২০ মে’র পর থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকিতিক গ্যাস) সরররাহ শুরু হবে। বর্তমানে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৯’শ থেকে সাড়ে ৯’শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরররাহ করছি। আগামী মাস থেকে ১১’শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরররাহ করা যাবে।

সভায় রমজান মাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরররাহ নিশ্চিত করতে বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সিএনজি পাম্প বন্ধ রাখা, সুপার মার্কেট, পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা, ইফতার ও তারাবির সময় শপিংমল, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর এবং অনান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এসি ব্যবহার বন্ধ রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।

Leave a Reply