আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব : প্রধানমন্ত্রী

আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, আমরা এগিয়ে যাব। জাতির পিতার আদর্শকে বুকে নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। ২০২১ সালে  আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। এ সুবর্ণজয়ন্তীতে আমাদের দেশকে  ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব। যা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল। আমরা তা অর্জন করতে পারব।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধু সমাধি কমপ্লেক্সে আয়োজিত শিশু সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা শিশুদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের দেশে কোনো পথ শিশু থাকবে না। জাতির পিতা শিশুদের খুব ভালো বাসতেন। আমাদের শিশু সোনা মনিদের সকলকে মনযোগ দিয়ে পড়ালেখা করতে হবে। আমরা কম্পিউটার শিক্ষা দিচ্ছি। মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম করে দিচ্ছি। বিভিন্ন প্রকার বৃত্তি দিচ্ছি।

তিনি বলেন, প্রাাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত দুই কোটি তিন লাখ শিক্ষার্থীকে আমরা বৃত্তি এবং উপবৃত্তি দিচ্ছি। এক কোটি ত্রিশ লাখ প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা তাদের মায়ের নামে মোবাইলে ফোনের মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের জন্য আমরা ভাতা দিচ্ছি। তারা প্রায় ৮ লাখ ভাতা পায়। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ৮০ হাজার বিশেষ শিক্ষার্থী বৃত্তি ও স্পেশাল ভাতা পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আমাদের শিশুরা যাতে উঠে দাঁড়াতে পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা করছি। প্রত্যেক জেলা যাতে ভিক্ষুকমুক্ত হয়, গৃহহারা মানুষ যাতে বাসগৃহ পায় সেদিকে  নজর রাখছি।  সমাজ ও দেশকে আমরা একেবারে গ্রাম থেকে যাতে গড়ে তুলতে পারি সে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

মহিলা ও শিশু  বিষযক মন্ত্রণালয় ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ শিশু সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শিশু আরাফাত হোসেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। স্বাগত বক্তব্য দেয় শিশু প্রতিনিধি  প্রিয়ন্তী সাহা পিউ। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম, এনডিসি, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার এম বজলুর করিম চৌধুরী, গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক  মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরবকার এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে শিশু প্রতিনিধি সঞ্চিতা বিশ্বাস মনি ও এনামূল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার ছোট ভাইয়ের নামে ‘শেখ রাসেল’ ডাক টিকিট ও বিশেষ খাম অবমুক্ত করেন। এরপর তিনি ‘আমাদের ছোট্ট রাসেল সোনা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

পরে তিনি দুজন দুস্থ মহিলার হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন। সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কারও বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও কাজী জাফর উল্যাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য এস এম কামাল হোসেনসহ মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব, তিন বাহিনী প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, তথ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সচিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply