ডিজিটাল প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর হবে ভোক্তা অধিদফতর

ডিজিটাল প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর হবে ভোক্তা অধিদফতর

ডিজিটাল বাজার ব্যবস্থার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। মানুষ এখন ঘরে বসেই সহজে পণ্য কেনাবেচা করছে। পাশাপশি ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে প্রতারণা করছে অনেক প্রতিষ্ঠান। তাই এ বছর ডিজিটাল প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর হবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

১৫ মার্চ বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উপলক্ষে জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপের সময় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাজারের সমস্যা হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কারচুপি ও প্রতারণা। সেবার নামে তারা হয়রানি করছে ভোক্তাদের। অর্থাৎ ইন্টারনেটে একজন ক্রেতা পদ্মার ইলিশ দেখে অর্ডার করল, কিন্তু তাকে দেয়া হলো অন্য জায়গার ইলিশ। ফ্রেশ গরুর মাংসের নামে দেয়া হচ্ছে অধিক চর্বিযুক্ত মাংস। অর্ডার করা পণ্য দুদিনের মধ্যে দেয়ার কথা থাকলেও ১০ দিনেও তা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে না। এরকম শতশত অভিযোগ অধিদফতরে জমা হচ্ছে। তার প্রতিকারও করা হচ্ছো।

২০১৮ সালের বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ডিজিটাল বাজার ব্যবস্থায় অধিকতর স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিতকরণ।’

প্রতিপাদ্য বিষয়টি সম্পর্কে অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, ডিজিটাল কারচুপি ও প্রতারণা রোধে এটি একটি যুগোপযোগী প্রতিপাদ্য। এ বিষয়ে অধিদফতার কাজ করছে। প্রতিপাদ্যের বিষয় অনুযায়ী এ বছর ডিজিটাল প্রতারণা রোধে কঠোর হবে অধিদফতর। ইতোমধ্যে অনেক গ্রাহক অনলাইনে পণ্য কিনে প্রতারিত হয়ে অভিযোগ করেছে। প্রমাণ সাপেক্ষে অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছে অধিদফতর।

তিনি বলেন, অধিদফতরের পক্ষ থেকে সবসময় সভা-সেমিনার এবং লিফলেট, পাম্পলেট, পোস্টারের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন দেশে কার্যকর হয়। গঠন করা হয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

ভোক্তা আইনে কেউ পণ্য বা সেবা ক্রয় করে ক্ষতিগ্রস্ত হলে উদ্ভূত ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক কিংবা অধিদফতরের জেলা পর্যায়ের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিদের বরাবর অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে অভিযোগকারী সাদা কাগজে লিখিত অথবা ই-মেইল, ফ্যাক্স অথবা টেলিফোনে প্রমাণসহ নিজ পরিচয় দিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।

এ আইনের সবচেয়ে ভালো দিকে হচ্ছে ১. অভিযোগ দায়ের করতে কোনো কোর্ট ফি দিতে হয় না। ২. দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং অভিযোগ প্রমানিত হলে আদায় করা জরিমানার ২৫ শতাংশ অভিযোগকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে দেয়া হয়।

Leave a Reply