দরপতনের প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ

দরপতনের প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ

শেয়ারবাজারে টানা দরপতনের প্রতিবাদে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিক্ষোভ করেছে বিনিয়োগকারীরা। সোমবার বাংলাদেশ শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি একই সংগঠনের ব্যানারে ডিএসইর সামনে বিক্ষোভ করা হয়।

বিক্ষোভের বিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান উর রশিদ চৌধুরী জাগো নিউজকে বলন, শেয়ারবাজারে পরিকল্পিতভাবে দরপতন ঘটানো হচ্ছে। এর প্রতিবাদের আমরা আজ রাস্তায় নেমেছি।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০১০ সালে যে চক্র শেয়ারবাজার থেকে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থ হাতিয়ে নেই, সেই চক্রই আবার বাজারে সংক্রিয় হয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবেই এমন অবস্থার সৃষ্টি করছে। ২০১০ সালে যারা শেয়ারবাজার অস্থিতিশীল করেছিল তাদের বিচার চাই। বাজার যতদিন স্বাভাবিক না হবে আমাদের আন্দোলন চলবে।

বিনিয়োগকারী এ নেতা বলেন, শেয়ারবাজারে পতন হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। পাতানো খেলার মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম প্রভাব ফেলানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে ২০১০ সালের রাঘব বোয়ালরা জড়িত। যাদের নাম ইব্রাহিম খালেদের তদন্তে উঠে এসেছিল। তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে পারলেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের বর্তমান মন্দাবস্থায়ও আইসিবি শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় রয়েছে। বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত।

বিক্ষোভের সময় ডিএসই চেয়ারম্যান সাক্ষাতের জন্য বিনিয়োগকারীদের ডাকেন উল্লেখ করে মিজান উর রশিদ চৌধুরী বলেন, আমরা দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ডিএসইর ভবনে ঢুকে চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে বেশকিছু দাবি রাখি। এসব দাবির মধ্যে অন্যতম হলো- শেয়ারবাজারে অপ্রদর্শিত (কালো) টাকা প্রবেশের অবাধ ব্যবস্থা রাখা। কারণ অপ্রদর্শিত অর্থ না ঢুকলে শেয়ারবাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়বে না।

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে শেয়ারবাজারে দরপতন হচ্ছে। এর মধ্যে শেষ দুই কার্যদিবসে বড় দরপতন ঘটেছে। দুই দিনের পতনে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক কমেছে ১২১ পয়েন্ট। এর মধ্যে সোমবার কমেছে ৬৭ পয়েন্ট। বাজারে তারল্য সঙ্কট দেখা দেয়ায় এমন দরপতন হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ডিএসইর সাবেক পরিচালক এবং মডার্ন সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খুজিস্তা নূর-ই-নাহারিন (মুন্নি) জাগো নিউজকে বলেন, শেয়ারবাজারে তারল্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যে কারণে বড় দরপতন হচ্ছে এবং লেনদেন খরা দেখা দিয়েছে। আইসিবিকে বিনিয়োগ উঠিয়ে নেয়ার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে। ফলে এখন বাজারে সাপোর্ট দেয়ার মতো প্রতিষ্ঠান নেই। আবার এডিআর কমানো হয়েছে। এসব কারণেই শেয়ারবাজারে তারল্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply