নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে মেলা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে মেলা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও তাদের উৎসাহিত করতে আবারও বিশেষ মেলার আয়োজন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। মেলায় বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) নারী উদ্যোক্তারা অংশ নিবেন। আগামী বৃহস্পতিবার রাজধানীর শিশু একাডেমি চত্বরে এ মেলা শুরু হবে।

তিনদিনব্যাপী মেলায় ৬২টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে অংশ নেবে। মেলার উদ্বোধন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মেলায় উপস্থিত থাকবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রাম বিভাগের নারী উদ্যোক্তা ইউনিট মেলার সার্বিক আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে। মেলা নারী উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রসার ও ব্যাংকের সঙ্গে তাদের সর্ম্পক জোরালো করছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালে প্রথম বারের মতো নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ এই উদ্যোগ হাতে নেয়। এরপর থেকে নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে এই মেলা করে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিসব হিসেবে পালন করে থাকে সারা বিশ্ব। আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে ঘিরে মূলত মেলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এবার। মেলা চলবে ১০ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত মেলায় বিনা টিকিটে প্রবেশ করতে পারবেন আগ্রহীরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের মেলায় অংশ নেয়া ৬২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৫টি ব্যাংক রয়েছে। বাকি ১৭টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের একজন করে এসএমই নারী গ্রাহক যারা ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছেন এমন উদ্যোক্তার পণ্য মেলায় প্রদর্শন করা হবে। আগ্রহী দর্শনার্থীরা চাইলে সেসব পণ্য কিনতে পারবেন অথবা বড় আকারে ক্রয় আদেশ দিতে পারবেন।

নারীরা তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য যেমন, তৈরি পোশাক, জুতা, কসমেটিকস, ব্যাগ, খাবার সামগ্রী, প্লাস্টিক পণ্য, বুটিকস পণ্য, গহনা, পাটজাত পণ্যসহ বাহারি সামগ্রী মেলায় প্রদর্শন করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসএমই খাতে ব্যাংকগুলো মোট ঋণ দিয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৬ কোটি টাকা, যার মধ্যে নারী উদ্যোক্তারা পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। তার আগের বছর ২০১৬ সালে নারী উদ্যোক্তারা ৫ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন, যা ২০১৬ সালে ছিল ৪ হাজার ২২৭ কোটি টাকা।

Leave a Reply