প্রাইম ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২৯ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগ

প্রাইম ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২৯ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগ

প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় ২৯ কোটি টাকার কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। যার মধ্যে আবগারি শুল্ক বাবদ ২৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার ২৫৯ টাকা এবং ৫ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা উৎসে কর্তিত মূল্য সংযোজন কর (মূসক) রয়েছে।

আবগারি শুল্ক সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়ে চিঠি এবং মূসক ফাঁকির বিষয়ে দাবিনামা জারি ও কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) মূল্য সংযোজন কর শাখা থেকে পাওনা আদায়ে প্রাইম ব্যাংককে মঙ্গলবার এ চিঠি দেয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, গত ২২ তারিখে হেড অফিসে এনবিআরের ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম পরিদর্শন করে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির কাছে রক্ষিত বিভিন্ন রেকর্ডপত্র ও কম্পিউটারে রক্ষিত রেকর্ডপত্র প্রিন্ট করে হিসাব সংক্রান্ত তথ্য-বিবরণী সংগ্রহ করা হয়। উক্ত বিবরণী ও মাসিক পর্যালোচনা করে অর্থ ফাঁকির এ তথ্য পায় এনবিআর।

এছাড়া ব্যাংকটির পরিশোধযোগ্য আবগারি শুল্ক বাবদ ২৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার ২৫৯ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি। যা প্রতিমাসে প্রযোজ্য অবগারি শুল্ক অর্থ মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অবগারি প্রজ্ঞাপন নং ১২৯ আইন/২০১৫/৩১৪ আবগারি, তারিখ ৪/৬/২০১৫ এর টেবিলে বর্ণিত হার অনুযায়ী আদায়ের বিধান রয়েছে।

চিঠিতে এই অপরিশোধিত আবগারি শুল্ক অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

অন্যদিকে গত অর্থ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার টাকার মূসক ফাঁকি দিয়েছে ব্যাংকটি। বৃহৎ করদাতা ইউনিটের ভ্যাট সদর দফতরের টিম ২৯ জানুয়ারি ব্যাংকটির এই কর ফাঁকির বিষয়ে এক প্রতিবেদন দাখিল করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধযোগ্য উৎসে মূসকের পরিমাণ ১২ কোটি ৩১ লাখ ৮৩২ টাকা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি দাখিলপত্রে মূসক উল্লেখ করেছে ৭ কোটি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৫৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি বাকি ৫ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫৭৭ টাকা পরিশোধ না করে ফাঁকি দিয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এই হিসাবে ব্যাংকটির অপরিশোধিত রাজস্বের পরিমাণ ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এরুপ কার্যকলাপ মূল্য সংযোজন আইন ১৯৯১ এর ধারা ৩ এর উপধারা (১), উপধারা (৩), উপধারা (৫) এর উপধারা (৪), ধারা ৬ এর উপধারা ৩ ও (৪ঘ) এর মূল্য সংযোজন কর বিধিমালা ১৯৯১ এর বিধি ১৮ক, বিধি ১৮খ, বিধি ২৩ ও বিধি ২৪ এ লঙ্ঘন।

এ অবস্থায় অপরিশোধিত অর্থ ১৫ দিনের মধ্যে কেন পরিশোধ করা হবে না তা জানতে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ব্যাংকটির ডিএমডি গোলাম রব্বানী বলেন, ‘সম্প্রতি এনবিআরের লোকজন আমাদের হেড অফিস পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু কর ফাঁকি সংক্রান্ত চিঠির বিষয়ে কোনো কিছু জানা নেই।’ এ সময় তিনি ব্যাংকটির ফাইন্যান্স বিভাগের নাজমুল হোসাইন নামের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

পরে নাজমুল হোসাইনকে ফোন দেয়া হলে তিনি জানান, এনবিআরের কর্মকর্তারা আমাদের ব্যাংক পরিদর্শনে এসে সেটিসফাইট ছিলেন। কোনো সমস্যা পাননি।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর মূসক ও ভ্যাট বাবদ যে পরিমাণ অর্থ জমা দেয়া হয়, এবার তার চেয়ে বেশি দেয়া হবে। অর্থবছর শেষ হয়ে গেলেও মূসকের অর্থ পরিশোধে এক মাস সময় পাওয়া যায়। এই অবস্থায় কোনো নোটিশ আসলে সেই অর্থ পরিশোধ করা হবে।

এছাড়া আবগারি শুল্ক ফাঁকির বিষয়ে কোনো চিঠি আসেনি উল্লেখ করে এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না বলে জানান তিনি।

Leave a Reply