বিডিএফ কর্ম অধিবেশনে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ

বিডিএফ কর্ম অধিবেশনে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ

বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) এক কর্ম অধিবেশনে দাতা সংস্থার প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞ বক্তারা দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য শস্য বৈচিত্রকরণ, ইনোভেশনসহ এক্ষেত্রে ব্যাপক গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও-এ বুধবার বিকেলে ‘চরম প্রতিকূল জলবায়ুতে টিকে থাকার মতো কৃষি’ শীর্ষক কর্মঅধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি।
এরআগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) আয়োজনে আজ সকালে দু’দিনব্যাপী এই বিডিএফ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটি বিডিএফ’র তৃতীয়বারের মতো আয়োজন। ২০০৯ সালে প্রথম ও ২০১৫ সালে দ্বিতীয়বার এ জাতীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মইনুদ্দীন আবদুল্লাহ ‘চরম প্রতিকূল জলবায়ুতে টিকে থাকার মতো কৃষি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
এতে প্যানেল আলোচক ছিলেন বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেনি হোলেনস্টেইন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ডেভিড ডোলেন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব আবদুল্লাহ আল মহসিন চৌধুরী এবং বাংলাদেশ স্টোর ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ-এর ড. আতিক এ রহমান।
উল্লেখ্য, বিডিএফ’র এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘উন্নয়নের জন্য অংশীদারিত্ব’ (‘পার্টনারশীপ ফর ডেভেপলমেন্ট’)।
কর্মঅধিবেশনে সভাপতির বক্তৃতায় কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, আমরা সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে মোকাবেলা করেছি। এক্ষেত্রে আমরা কারও সহযোগিতা নয়, বরং নিজেদের সামর্থ দিয়ে সুন্দরভাবে ওইসব দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা করেছি। বন্যা, সাইক্লোনসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমরা অত্যন্ত সফলতার সাথে মোকাবেলা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি।
বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, দরিদ্র ও ক্ষুদ্র কৃষকদের উন্নয়নে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা অত্যন্ত দৃড়তার সঙ্গে কাজের মাধ্যমে তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে চলেছে।এজন্যই আমরা গ্রাম থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি ক্লাব গড়ে উঠেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা তথা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের উন্নয়নে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে।
বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেনি হোলেনস্টেইন বাংলাদেশে কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রশংসা করে বলেন, এই উৎপাদন আরও বৃদ্ধির জন্য গবেষণা ও ইনোভেশন দরকার। এজন্য পাবলিক-প্রাইভেট সেক্টরে আরও সহযোগিতা বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ডেভিড ডোলেন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য শস্য বৈচিত্রকরণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
দেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং এসডিজি অর্জনের উপায়সমূহ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সপ্তম পঞ্চবার্ষিক (৭ এফওয়াইপি) পর্যালোচনাই হচ্ছে এবারের বিডিএফ’র মূল আলোচ্য বিষয়। ফোরামে ২০৩০ সালের মধ্যে সফলভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ৯২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাপ্তির বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে।
ফোরামের মূল অধিবেশনে ‘ইমপ্লিমেন্টেশন অফ দ্য সেভেন্থ এফওয়াইপি অ্যান্ড দ্য এসডিজিস : চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড দ্য ওয়ে’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।
বিডিএফ সংশ্লিষ্টরা বলেন, ‘ফোরামের আলোচনায় বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করা হবে।’

Leave a Reply